সিনিয়র অফিসারের ৯০৩ পদ, এমসিকিউর প্রস্তুতিতে যে যে কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতি তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের আগ্রহ আছে। ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ে তোলা, ভালো বেতন কাঠামো, ইনসেনটিভ বোনাস, লাঞ্চ ভাতা, হাউস লোন সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধার কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার হার আগের তুলনায় অনেক গুণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয় রাষ্টায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রম (এমসিকিউ, লিখিত, ভাইভা) পরিচালনা করে। ২১/৫/২০২৬ তারিখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৯টি ব্যাংক ও ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৯ম গ্রেডে সিনিয়র অফিসার জেনারেলের ৯০৩ পদের প্রার্থীদের প্রবেশপত্র ডাউনলোডের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বেতন স্কেল: জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী, এই পদের মূল বেতন স্কেল ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা। এর পাশাপাশি নিয়মানুযায়ী অন্যান্য প্রদেয় সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা প্রদান করা হবে।
সিনিয়র অফিসারের ৯০৩ পদের প্রথমে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এমসিকিউ পরীক্ষা ১০০ নম্বরের। প্রশ্নের মান বণ্টনে ইংরেজি ব্যাকরণ ও সাহিত্য ২০, বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য ২০, সাধারণ গণিতে ২০, ফিন্যান্সিয়াল এবং ব্যাংকিং নলেজ ১০, অ্যানালিটিক্যাল স্কিল ২০, বেসিক নলেজ অন আইসিটিতে ১০ নম্বর। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য নিচের কৌশলগুলো অবলম্বন করতে পারেন প্রার্থীরা।
১. বিগত বছরের ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করা
ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয় কর্তৃক ইতিপূর্বে পরিচালিত সব নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে।
২. সব বিষয়ে সমান গুরুত্ব দেওয়া
মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য সব বিষয়ে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। আপনার বাংলা বা ইংরেজি কিংবা গণিতে যথেষ্ট দক্ষতা থাকতেই পারে। কিন্তু ফিন্যান্সিয়াল ও ব্যাংকিং নলেজ বিষয়কে যদি আপনি গুরুত্ব না দেন, তাহলে এই বিষয়ে মোট ১০টি এমসিকিউ প্রশ্ন আসবে, যার উত্তর দেওয়া আপনার জন্য কঠিন হবে।
৩. গণিত ও অ্যানালিটিক্যাল স্কিল সমাধান করতে হবে দ্রুত সময়ে
ব্যাংকের চাকরির জন্য গণিত এবং অ্যানালিটিক্যাল স্কিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই দুই বিষয়ে ৪০টি প্রশ্ন থাকবে। অনেকের গণিত নিয়ে ভয় থাকে। কিন্তু গণিতকে ভালোবাসতে হবে। এই ৪০ নম্বর অনেকের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
৪. সময় ব্যবস্থাপনা করতে হবে
আপনি যদি একটু কৌশলী হন, আপনার জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বা এমসিকিউ পরীক্ষা উত্তীর্ণ হওয়া সহজ হবে। আপনাকে শতকরা ৭০ নম্বর অর্জনের জন্য টার্গেট করে পরীক্ষা দিতে হবে। নেগেটিভ মার্ক বাদ দেওয়ার পরেও আপনার ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ নম্বর নিশ্চিত করতে পারলে, এমসিকিউ উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাবেন।
৫. আন্দাজে উত্তর না দেওয়া
প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাওয়া যাবে, কিন্তু প্রতিটি ভুল উত্তরে শূন্য দশমিক ২৫ (.২৫) নম্বর কাটা যাবে, তাই আন্দাজে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একটি প্রশ্ন এল, যার সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা নেই। কোনো একাডেমিক বই বা গাইড বই থেকে এই প্রশ্ন দেখেননি। এমন প্রশ্নের উত্তর আন্দাজে না দেওয়া ভালো।
৬. বাসায় মডেল টেস্ট দেওয়া
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাস করতে হলে ভালো প্রস্তুতির বিকল্প নেই। বাজারে ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতির বিভিন্ন প্রকাশনীর নানা বই পাওয়া যায়। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নেওয়ার পর বাসায় প্রতিদিন স্টপওয়াচ দেখে দুটি করে মডেল টেস্ট দিতে হবে। অনলাইন অ্যাপ বা গাইড বই থেকেও মডেল টেস্ট দিতে পারবেন। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো হবে।
৭. সাম্প্রতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা
জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, মাসিক ম্যাগাজিন থেকে সমসাময়িক জাতীয় বিষয়, অর্থনৈতিক বিষয়, আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে খোঁজ রাখতে হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক সামিটের তারিখ, মুদ্রার বিনিময় হার, সংস্থার প্রধান নির্বাহী এই তথ্যগুলো পরিবর্তনশীল। তাই এসব সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানতে হবে।
৮. কমন প্রশ্নগুলো আগে উত্তর দেওয়া
ধৈর্যসহকারে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পরিকল্পনামাফিক পড়াশোনা করলে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্নই আপনি কমন পাবেন। ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি প্রশ্ন আপনি খুব সহজেই উত্তর করতে পারবেন। তাই ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে কমন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে।
৯. কঠিন প্রশ্নগুলো পুনরায় সমাধানের চেষ্টা করা
পরীক্ষার হলে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। প্রথম ধাপে যেই প্রশ্নগুলো আপনি উত্তর দেননি, দ্বিতীয় ধাপে নিজের কমনসেন্স ব্যবহার করেও কঠিন প্রশ্নগুলোর মধ্যে কিছু প্রশ্নের উত্তর আপনি বের করতে পারবেন।
আবেদনকারী প্রার্থীদের মনে রাখতে হবে, ব্যাংকে চাকরিতে এমসিকিউ পরীক্ষা ফার্স্ট হওয়ার পরীক্ষা নয়, এটি চাকরির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াই। চাকরি নির্ধারিত হয় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে।
শূন্যপদের বিবরণ
মোট ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকে ৯০৩ জন জনবল নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পদের সংখ্যা
রূপালী ব্যাংক পিএলসি: ৪৭১টি
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি: ২৪০টি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: ৮০টি
কর্মসংস্থান ব্যাংক: ৩৯টি
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক: ৩২টি
বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন: ২০টি
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ: ১১টি
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি: ০৫টি
বেসিক ব্যাংক পিএলসি: ০২টি
আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক: ০২টি
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: ০১টি
লেখক: রাজিব খান, সিনিয়র অফিসার, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, ব্যাংকিং প্রফেশনাল পরীক্ষা দুটি পর্ব (জেএআইবিবি, এআইবিবি) উত্তীর্ণ এবং বিবিএ, এমবিএ, (ফিন্যান্স বিভাগ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।