৫১তম বিসিএস সাধারণ না বিশেষ, কোনটি আগে আসছে
বছরে একটি করে বিসিএস পরীক্ষা সম্পন্ন করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের রোডম্যাপ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং একই মাসে ৫১তম সাধারণ বিসিএসের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য কমিশন প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্ত এই প্রক্রিয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের মনে এখন একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আসছে বিসিএসটি সাধারণ হবে, নাকি চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস?
বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) চলছে। এটি দ্রুত শেষ করে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে চায় পিএসসি। সেই হিসাব ধরেই একই সময়ে সাধারণ ক্যাডারের নতুন বিসিএস হিসেবে ৫১তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সরকারি হাসপাতালে শূন্য পদে জনবল বাড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন ও ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জনসহ ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের চাহিদাপত্র ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সরকারের কাছ থেকে পেয়েছে পিএসসি। পিএসসি সূত্র নিশ্চিত করেছে, চিঠি পাওয়ার পর এই বিশেষ বিসিএসের প্রাথমিক দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামনে আসায় আগামী বিসিএস নিয়ে ক্যাডারপ্রত্যাশীদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ বিসিএসের চাহিদাপত্র আগে প্রস্তুত হয়ে গেলে সেটি সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি ঠেলে আগে চলে আসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। যে পরীক্ষাটির বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশিত হবে, নম্বর গণনার নিয়ম অনুযায়ী সেটিই ৫১তম বিসিএস হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা।
বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রথম আলোকে জানান, দুই বিসিএসের কোনটির বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশিত হবে—সাধারণ না বিশেষ, সে বিষয়ে এখনো কমিশনের থেকে সিদ্ধান্ত হয়নি। চাহিদাপত্র ও প্রাথমিক দাপ্তরিক সব কাজ শেষ করে কমিশনের বোর্ড মিটিংয়ে এটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। সেই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর যে বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে আগে জারি হবে, সেটিকেই ৫১তম বিসিএস হিসেবে অভিহিত করা হবে।
বিশেষ বিসিএসের সুবিধা হলো এতে লিখিত পরীক্ষার দীর্ঘ জটিলতা থাকে না। কেবল প্রিলিমিনারি ও ভাইভার মাধ্যমে তুলনামূলক কম সময়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে হাজার হাজার ক্যাডারপ্রত্যাশী সাধারণ বিসিএসের জন্য নভেম্বরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। কমিশন এখন কোনটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগে সামনে আনবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ৫১তম বিসিএসের পরিচয়।