বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাধারণত কোনো অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের খুদে বার্তায় তা জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সমাজসেবা অধিদপ্তর পরীক্ষার্থীদের কোনো খুদে বার্তা দেয়নি। শুধু পরীক্ষার আগের দিন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরীক্ষা স্থগিতের তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়।

default-image

শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় কেউ কেউ ঢাকার বাসে ওঠার পর এ খবর পান। কেউ ঢাকায় পরীক্ষা দিতে এসে জানতে পারেন স্থগিত হয়েছে। মিজানুর রহমান নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘আমার মতো অনেকে ট্রেনে যাওয়া-আসার টিকিট কেটেছিল। প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঢাকায় চলে এসেছিল। একেক জনের কমপক্ষে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা করে জলে গেছে। একজন বেকার যুবকের পক্ষে এ টাকা জোগাড় করা কত কষ্টের তা শুধু বেকাররাই জানে।’

পরপর দুবার এ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মনে দেখা দিয়েছে নানা শঙ্কা। তাঁরা বলছেন, এর পেছনে হয়তো কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে। কেউ কেউ প্রশ্ন ফাঁসেরও অভিযোগ এনেছেন।

বৃহস্পতিবার সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ও বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সভাপতি সৈয়দ মো. নূরুল বাসির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবারের পরীক্ষা স্থগিতের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, অনিবার্য কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

পরীক্ষার আগের দিন হঠাৎ কেন পরীক্ষা স্থগিত করা হলো, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ মো. নূরুল বাসির আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে যে চিঠি আমাদের কাছে এসেছিল সেখানে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।’ কবে আবার এ পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অধিপ্তরের জনবল সংকট আছে। খুব শিগগির এ পদে পরীক্ষা নেওয়া হবে।’

নিয়োগ পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) স্থায়ী রাজস্ব’ পদের নিয়োগ পরীক্ষার একটি প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন চাকরির গ্রুপে একটি প্রশ্নের অর্ধেক অংশ শেয়ার করেন অনেকে।

শরিফুল ইসলাম নামের এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, এই ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সবাই জেনে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বলা হয়, ‘এটি সম্পূর্ণ গুজব। ফেসুবকে যে প্রশ্নপত্র ছড়িয়েছে সেটির সঙ্গে আমাদের প্রশ্নপত্রের কোনো মিল নেই, এমনকি মানবণ্টনেও কোনো মিল নেই। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সবার মুঠোফোন নম্বর পরীক্ষার দুই দিন আগে থেকে বন্ধ ছিল বলে জানানো হয়।’

উল্লেখ্য, সমাজসেবা অধিদপ্তরের তৃতীয় শ্রেণির সমাজকর্মী (ইউনিয়ন) স্থায়ী রাজস্ব পদে শূন্য পদের সংখ্যা ৪৬৩টি। ২০১৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এ পদে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সেবার অধিদপ্তর পরীক্ষার তিন দিন আগে ২৪ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষা বন্ধের তথ্য জানিয়েছিল।

নিয়োগ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন