default-image

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি পদে চাকরির জন্য আবেদন চাওয়া হয়েছিল। সেই আবেদনে সাড়াই পড়েছিল। পড়ারই কথা। ‘প্ল্যানেটারি প্রোটেকশন অফিসার’ নামের নাসার ওই পদে বার্ষিক বেতন ছয় অঙ্কের বেশি। বেতনকাঠামোর সঙ্গে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তো আছেই। এ পদে চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছিল, কারণ নয় বছরের এক শিশু ওই পদে আবেদন করে নাসায় চিঠি লিখেছিল। নাসাও ভবিষ্যতের কথা ভেবে ওই শিশুকে চিঠির উত্তরও দিয়েছিল।


নাসার মূল লক্ষ্য হলো সবার মঙ্গলের জন্য কাজ করা (Motto: For the Benefit of All)। কোনো বহির্জাগতিক জীবাণু পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখে নাসা। এ কাজ নজরদারি করে নাসার ‘প্ল্যানেটারি প্রোটেকশন’ বিভাগ। পৃথিবীর বাইরের কোনো জীবাণু যেন পৃথিবীতে এসে কিছু করতে না পারে, এ জন্য কাজ করে নাসার এই বিভাগ। এ বিভাগে কাজ করার জন্য ২০১৭ সালের জুলাই মাসে একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে বেশ উচ্চতর ডিগ্রিধারী ও যোগ্যতাসম্পন্ন (পৃথিবী সুরক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে জানাশোনা, গবেষণা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে) লোকদের আহ্বান করা হয়েছিল। এ জন্য মাসে বেতন ১০ হাজার ৫৮৩ ডলারের বেশি। টাকায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ লাখ ১০ হাজার ১৬৬ টাকার বেশি।  

বিজ্ঞাপন
default-image

এরই মধ্যে অবাক করা ব্যাপার ঘটে গেল এই চাকরির আবেদন নিয়ে। কারণ, নাসা দেখল, সেই চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দিয়ে আবেদন করেছে নয় বছরের একটি ছোট শিশু। তার নাম জ্যাক ডেভিস। বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে। পড়াশোনা করে চতুর্থ শ্রেণিতে। নাসার ওই পদে আবেদন করে নিজেকে ‘এলিয়েন’ উল্লেখ করে নিজ হাতে পেনসিল দিয়ে একটি আবেদনপত্র লিখেছিল ডেভিস। চিঠিতে ডেভিস নাসাকে লেখে, ‘আমার বয়স মাত্র নয় হতে পারে, কিন্তু আমি মনে করি, পদটির জন্য আমি উপযুক্ত।’ নিজের যোগ্যতার উল্লেখ করতে গিয়ে ডেভিস লেখে, তার বোন তাকে ‘এলিয়েন’ বলেন। তিনি জনপ্রিয় টিভি শো ‘মারভেল এজেন্টস অব সিল্ড’ সে দেখেছে। চিঠির শেষে ডেভিস নিজের নাম লেখার পর নিচে ‘গার্ডিয়ান অব দ্য গ্যালাক্সি’ এবং ‘ফোর্থ গ্রেড’—এই দুটি শব্দকে নিজের পরিচয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
নাসার কাছে পাঠানো সেই চিঠিতে জ্যাক লিখেছে—


প্রিয় নাসা
আমার নাম জ্যাক ডেভিস এবং আমি ‘প্ল্যানেটারি প্রোটেকশন অফিসার’ পদে আবেদন করতে চাই। যদিও আমার বয়স মাত্র নয়, কিন্তু আমি মনে করি, এই কাজের জন্য আমি উপযুক্ত। আমি যে উপযুক্ত, এর পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে। সেগুলোর একটি হলো আমার বোন সব সময় বলে আমি একটা এলিয়েন। তা ছাড়া আমি এলিয়েন ও মহাকাশ–সম্বন্ধীয় প্রায় সব মুভি দেখেছি। ‘মার্ভেল এজেন্ট অব শিল্ড’ও আমি দেখেছি। ‘ম্যান ইন ব্ল্যাক’ও দেখে ফেলব। ভিডিও গেমেও আমি বেশ দক্ষ। আমি অল্প বয়সী মানুষ, তাই সহজেই আমি এলিয়েনের মতো করে চিন্তাভাবনা করা শিখে ফেলতে পারব।

বিনীত
জ্যাক ডেভিস
গার্ডিয়ান অব দ্য গ্যালাক্সি
চতুর্থ শ্রেণি

বিজ্ঞাপন
default-image

জ্যাক ডেভিসকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু নিজের ওই চিঠির চমৎকার জবাব পেয়েছিল জ্যাক। নাসার প্ল্যানেটারি সায়েন্স বিভাগের পরিচালক ড. জেমস এল গ্রিন জ্যাককে চিঠি লিখে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আর ভবিষ্যতে নাসায় কাজ করবে জ্যাক—এমন শুভাকাঙ্ক্ষা জানিয়েছিলেন গ্রিন। নাসার প্যাডে টাইপ করা চিঠি গ্রিন পাঠান ওই শিশুর কাছে। নিজের সই করা চিঠি ডাকযোগে পাঠিয়েও দেন জ্যাকের কাছে। জেমস গ্রিন জ্যাক ডেভিসকে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি ফোনও করেছিলেন।


প্রিয় জ্যাক
আমি তোমার চিঠি পড়েছি। তুমি এই গ্যালাক্সির একজন অভিভাবক (গার্ডিয়ান অব দ্য গ্যালাক্সি, মার্ভেল কমিকসের একটি বিশ্ববিখ্যাত মহাকাশ সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র)। তুমি নাসার প্ল্যানেটারি প্রোটেকশন অফিসার হতে চাও, এটা চমৎকার ঘটনা।
প্ল্যানেটারি প্রোটেকশন অফিসার পদের কাজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গল গ্রহ, চাঁদ ও বিভিন্ন গ্রহাণু থেকে আমরা কিছু স্যাম্পল এনে থাকি পৃথিবীতে। এই পদের মূল কাজ হলো এসব উৎস থেকে আনা স্যাম্পলের ক্ষুদ্র অণুজীবের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা। আমরা যেহেতু সৌরজগতের বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালাই, তাই এই পদের আরও একটি কাজ হলো পৃথিবীর জীবাণু থেকে চাঁদসহ অন্যান্য গ্রহকে রক্ষা করা।
আমরা সব সময়ই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের খুঁজছি, যারা আমাদের সাহায্য করতে পারবে। তাই আশা করি, তুমি খুব ভালোভাবে পড়াশোনা করবে আর চমৎকার ফলাফল করবে। আমরা আশা রাখি, একদিন তোমাকে নাসার কর্মী হিসেবে পাব।

বিনীত
ড. জেমস এল গ্রিন
ডিরেক্টর, প্লানেটারি সায়েন্স বিভাগ


এর আগেও ২০১৩ সালে ৭ বছরের একটি ছেলে নাসায় চিঠি পাঠিয়েছিল। নাসার পক্ষ থেকে সেই চিঠিরও উত্তর দেওয়া হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

মন্তব্য পড়ুন 0