এআইকে ‘চাকরিখেকো’ ভাবার কারণ নেই: জেফ বেজোস
এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চাকরি হারানোর আতঙ্ক বাড়ছে। তবে এই পরিস্থিতিতে আশার বাণী শোনালেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তাঁর মতে, এআইকে ‘চাকরিখেকো’ ভাবার কারণ নেই। দীর্ঘ মেয়াদে এটি অর্থনীতিতে বেকারত্ব বাড়াবে না, বরং শ্রমশক্তির চাহিদা ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে।
এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বেজোস নিজেই ‘প্রমিথিউস’ নামে একটি নতুন এআই স্টার্টআপ চালু করেছেন। ৪১ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের এই প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে জেপিমরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকস থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। গুগলের সাবেক নির্বাহী ভিক বাজাজকে সঙ্গে নিয়ে বেজোসের সহপ্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রমিথিউসের লক্ষ্য একটি ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার’ তৈরি করা। এটি জেট ইঞ্জিন বা মহাকাশযানের মতো জটিল পণ্য নকশায় প্রকৌশলীদের সহায়তা করবে। বেজোস বলেন, ‘সমাজের সম্পদ সৃষ্টির মূল চালিকা শক্তি হলো উদ্ভাবন।’ প্রমিথিউস সেই উদ্ভাবনের গতিকে অনেক দ্রুত ও সহজ করবে।
এআই নিয়ে তরুণদের উদ্বেগকে ‘বাস্তবতার বিপরীত’ আখ্যা দিয়েছেন বেজোস। তাঁর মতে, এআই কোনো কাজে জনবল ১০ গুণ কমালে, উদ্ভাবনের খরচ কমে যাওয়ার কারণে বাজারে ১০ গুণের বেশি নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এআই-কে বুলডোজারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘বেলচার বদলে কেউ আপনাকে বুলডোজার দিলে আপনার খুশি হওয়াই উচিত।’
অবশ্য এর ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। ‘চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই এআই-এর কারণে ২১,৪৯০টি চাকরি বিলুপ্ত হয়েছে।