প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের যোগদান হয়নি আড়াই মাসেও, এবার প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রার্থীদের

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ২০২৫ চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরাছবি: বিজ্ঞপ্তি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ২০২৫ ব্যাচের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত যোগদান কার্যক্রম সম্পন্নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) দেশের ৬১ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত হয়। এরপর মেডিক্যালসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন প্রার্থীরা। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো যোগদানের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাঁরা মানসিক চাপ ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন ভেবে অন্য সরকারি চাকরিতে যোগ দেননি। ফলে তাঁরা আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও তাঁদের যোগদান প্রক্রিয়া এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এর আগে ১৩ এপ্রিল ২০২৬ চাকরিতে দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা করার দাবিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। সে সময়ও তাঁরা এই বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ২০২৫ চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করে অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন

যোগদানের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ-প্রত্যয়ন ও ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ১ মার্চের মধ্যে সব ডকুমেন্ট যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদ, সিভিল সার্জনের দেওয়া স্বাস্থ্যগত সনদ-প্রত্যয়ন এবং ডোপ টেস্ট রিপোর্টসহ সশরীর উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। এসব নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তারপরও চূড়ান্ত নিয়োগপত্র না পাওয়ায় প্রার্থীরা যোগদান করতে পারছেন না।

আরও পড়ুন