চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনায় তিন বিসিএসে সফল মেহেদী হাসান বললেন, বিসিএস প্রস্তুতির ৬ কৌশল
সকাল থেকে বিকেল অফিস, এরপর পরিবার ও ব্যক্তিগত নানা দায়িত্ব। এত ব্যস্ততার মধ্যেও কেউ কেউ বিসিএসেও একের পর এক সাফল্য অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে একজন রাজশাহীর মো. মেহেদী হাসান। তিনি ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার, ৪৬তম বিসিএসে শুল্ক ও আবগারি ক্যাডার এবং ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করে তিন বিসিএসেই (৪৫তম বিসিএসে প্রিলির পরেই চাকরি শুরু করেন) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মো. মেহেদী হাসান। সাবেক এই রুয়েট শিক্ষার্থী কীভাবে বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতাই প্রথম আলোর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
১. কৌশলী ও পরিশ্রমী হতে হবে
বিসিএসের বিশাল সিলেবাস এবং লাখো পরীক্ষার্থীর প্রতিযোগিতায় সফল হতে হলে পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক পরিশ্রমের বিকল্প নেই। চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতি নেওয়া আরও কঠিন। তাই সময়কে কাজে লাগানোর কৌশল জানতে হবে।
মেহেদী হাসানের পরামর্শ, মূল বইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বাজারের যেকোনো একটি ভালো মানের সহায়ক বই অনুসরণ করা যেতে পারে। একই বিষয়ের একাধিক বই না পড়ে একটি বই বারবার পড়লে বিষয়টি ভালোভাবে আয়ত্ত হয় এবং পরীক্ষার আগে রিভিশনও সহজ হয়।
২. প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রস্তুতি একসঙ্গে
বর্তমানে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার মধ্যকার সময় তুলনামূলক কম। তাই শুরু থেকেই দুই পরীক্ষার প্রস্তুতি একসঙ্গে নেওয়া বেশি কার্যকর। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মতো বিষয়গুলো প্রিলি ও লিখিত—দুই পরীক্ষাতেই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি বিষয়ের প্রস্তুতি নিলে তা দুই ক্ষেত্রেই কাজে লাগে। একইভাবে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাসও প্রিলি ও লিখিত—উভয় পরীক্ষার জন্য উপকারী।
৩. রিভিশন ও মডেল টেস্টে গুরুত্ব দিন
যত বেশি মডেল টেস্ট দেওয়া যাবে, নিজের প্রস্তুতির মান তত ভালোভাবে বোঝা যাবে। এতে সময় ব্যবস্থাপনা, প্রশ্ন সমাধানের গতি এবং নেগেটিভ মার্কিং সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
এ ছাড়া মডেল টেস্টের মাধ্যমে নিজের দুর্বল বিষয়গুলো দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব। এরপর সেই অংশে বেশি সময় দিলে প্রস্তুতি আরও কার্যকর হয়। মেহেদী হাসানের মতে, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে অন্তত দুইবার পুরো সিলেবাস রিভিশন দেওয়া উচিত। এতে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।
৪. ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিং অনুশীলন করুন
লিখিত পরীক্ষায় শুধু তথ্য জানলেই হয় না, তা সুসংগঠিত ও বিশ্লেষণধর্মীভাবে উপস্থাপন করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিংয়ের অনুশীলন প্রয়োজন।
কোনো সাম্প্রতিক বিষয়, সম্পাদকীয় বা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে নির্দিষ্ট সময় ধরে লিখলে ভাষার দক্ষতা, বিশ্লেষণক্ষমতা ও যুক্তি উপস্থাপনের সক্ষমতা বাড়ে। সাম্প্রতিক বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে এসব দক্ষতার ওপর তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই শুরু থেকেই নিয়মিত অনুশীলন করা প্রয়োজন।
৫. নিয়মিত পত্রিকা ও ম্যাগাজিন পড়ুন
বিসিএস প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিভিন্ন সাময়িকী ও ম্যাগাজিনও কাজে আসতে পারে।
অফিসে অনেক সময়ই পত্রিকা থাকে। তাই মধ্যাহ্নবিরতি বা অবসর সময়ে একটি বা দুটি পত্রিকা পড়ে নেওয়া সম্ভব। অনেকেই মনে করেন, পত্রিকা শুধু লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন। কিন্তু চলমান ঘটনা, আন্তর্জাতিক বিষয়, অর্থনীতি, বিজ্ঞান বা সংবিধান-সংক্রান্ত অনেক তথ্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেও কাজে লাগে।
৬. ছুটির দিনগুলো কাজে লাগান
চাকরিজীবীদের জন্য সপ্তাহের কর্মদিবসে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করা সব সময় সম্ভব হয় না। তাই শুক্র ও শনিবার কিংবা অন্যান্য ছুটির দিনগুলো পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করতে হবে।
এই সময়ে সপ্তাহজুড়ে যেসব বিষয় শেষ করা যায়নি, সেগুলো সম্পন্ন করা, রিভিশন দেওয়া এবং মডেল টেস্ট দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। প্রয়োজনে বিনোদনের সময় কিছুটা কমিয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে।
চাকরির ব্যস্ততার মধ্যে বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ নয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের কার্যকর ব্যবহার এবং ধারাবাহিক পরিশ্রম থাকলে সফল হওয়া সম্ভব। তাই চাকরির পাশাপাশি যাঁরা বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কালক্ষেপণ না করে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা এবং তা অনুসরণ করার পরামর্শ মো. মেহেদী হাসানের।