বিজ্ঞাপন

এবার আসা যাক গসাগুর কথায়।

এখানেও আগের মতো দুটি সংখ্যা ধরো। এদের গসাগু হচ্ছে তৃতীয় এমন একটি সংখ্যা, যা আগের ওই দুটি সংখ্যাকেই নিঃশেষে ভাগ করে, এখানেও আগের মতো একটি শর্ত আছে। শর্তটি হচ্ছে তৃতীয় সংখ্যাটিকে যত দূর সম্ভব সবচেয়ে বড় হতে হবে। (আগের মতোই বলি, সব শর্ত পূরণ করলে ওই দুটির মাঝে যেকোনো একটিও গসাগু হতে পারে।)

লসাগু বা গসাগু নির্ণয়ের সময় সংখ্যাগুলোকে কেবল ‘সংখ্যা’ হিসেবে নয়, বরং ‘মৌলিক গুণনীয়কের গুণফল’ হিসেবে চিন্তা করা হয়। এতে অনেক লাভ।

ছোটবেলায় আমি এভাবে চিন্তা করতাম, আচ্ছা, দুটি সংখ্যার লসাগু বের করতে এত প্যাঁচ কেন? সংখ্যা দুটি গুণ করে দিলেই তো হয়।

কিন্তু উৎপাদকে বিশ্লেষণ শেখার পর এই চিন্তা মাথা থেকে সরে যায়। কারণ, সংখ্যা দুটিকে গুণ করলে ‘সাধারণ গুণিতক’ ঠিকই পাওয়া যায়, তবে তা ‘লঘিষ্ট’ (ছোট) হয় না।

আর এর জন্যই মৌলিক উৎপাদকের ব্যবহার। ১৫ আর ২৫–এর লসাগু তাই ১৫×২৫=(৩×৫)×(৫×৫) নয়। দুই জায়গাতেই একটি ৫ কমন, তাই একটিকে ছেঁটে ফেলে দেওয়া হয়। লসাগু হয় (৩×৫×৫)। আর এর ভেতরেই (৩×৫) আর (৫×৫) খুঁজে পাওয়া যায়।

আচ্ছা, এক মিনিট!

লসাগুতে যে উৎপাদকটিকে ছেঁটে ফেলে দেওয়া হয়, আমরা যদি দেখাতে পারি সেটাই হচ্ছে সংখ্যা দুটির গসাগু, তাহলেই কিন্তু আমরা আমাদের রহস্যের সমাধান করে ফেলব। কারণ, দুটি সংখ্যার গুণফল আর তাদের মৌলিক গুণনীয়কের গুণফল তো আসলে একই কথা।

গসাগু মানেই হলো ‘যে মৌলিক উৎপাদকটি বা উৎপাদকগুলো সবার মাঝে আছে’। চিন্তা করে দেখো তো, আমরা দুটি সংখ্যার লসাগু বের করার সময় বেছে বেছে কোন উৎপাদককে ছেঁটে ফেলে দিয়েছি?

যা সবার মাঝে ছিল। মানে মূল কথা হলো, সেটাই হচ্ছে গসাগু ছিল।

এই সম্পূর্ণ বক্তব্যটিকে বীজগণিতের মাধ্যমে মাত্র কয়েক লাইনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়।

ধরা যাক, a ও b দুটি সংখ্যা।

এবং, a ও b–এর গসাগু = q

তাহলে, বলা যায়, a=mq এবং b=nq

সুতরাং, তাদের লসাগু (LCM)=mnq

সংখ্যা দুটির গুণফল=a×b=mq×nq = mnq2

লসাগু–গসাগুর গুণফল= mnq×q= mnq2

অর্থাৎ সংখ্যা দুটির গুণফল= লসাগু গসাগুর গুণফল

প্রথম থেকে এত বকবক না করে হয়তো শেষের এই কয়েকটি লাইন লিখলেই হতো, কিন্তু তখন চমক ভাইয়ের মতে, বিষয়টা ‘feel’ করা যেত না...

যাওয়ার আগে একটি প্রশ্ন, সম্পূর্ণ লেখাটি খেয়াল করে দেখবে, খুব সাবধানে এখানে সব সময় ‘দুটি’ সংখ্যার লসাগু বা গসাগু নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তিনটি বা তার অধিক সংখ্যার লসাগু–গসাগুর ক্ষেত্রেও কি ‘লসাগু–গসাগুর গুণফল সংখ্যাদ্বয়ের গুণফলের সমান’ এই কথাটা খাটবে।

চিন্তা চলতে থাকুক।

সত্যি হোক গণিতের স্বপ্নযাত্রা।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন