বিজ্ঞাপন

জিরাফ: প্রাণিজগতে সবচেয়ে বেশি উচ্চতার প্রাণী হলো জিরাফ। এটি প্রায় ১৮ ফুট উঁচু হয়। এই বিশাল শরীর নিয়ে জিরাফ ঘণ্টায় ৩০ মাইলের বেশি বেগে ছুটতে পারে। জিরাফের গায়ের চামড়ায় অসংখ্য দাগ। এই দাগগুলো এর গাছগাছালির সঙ্গে মিশে থাকতে সাহায্য করে। এরা পা বাঁকাতে পারে না। আফ্রিকা মহাদেশের এই সুন্দর জন্তুটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমায়।

গরিলা: প্রাণীজগতের আরেক অদ্ভুত জন্তু গরিলা। এটি প্রচণ্ড শক্তিধর। আফ্রিকার গহিন অরণ্যে এদের বাস। বুনো জন্তুদের মধ্যে গরিলার পারিবারিক জীবন খুবই সুন্দর। মা-বাবা ও সন্তানদের নিয়ে গরিলার সংসার। গরিলার প্রিয় খাবার হলো গাছের নরম পাতা আর ফলমূল। এরা খুব শান্ত স্বভাবের। নিজে আঘাত না পেলে এরা অন্যকে আঘাত করে না।

উটপাখি: পাখির জগতে উটপাখি দৈত্যপাখি নামেই পরিচিত। এরা খুব জোরে ছুটতে পারলেও উড়তে পারে না। ঘণ্টায় এরা ৬০ থেকে ৭০ মাইল বেগে দৌঁড়াতে পারে। এরা মরুভূমিতে বাস করে। বালি খুঁড়ে বাসা তৈরি করে। উটপাখি সবকিছু খায়। এদের রাক্ষুসে খিদে। খিদে পেলে সামনে যা পায়, তা-ই খায়।

ঘড়িয়াল: ঘড়িয়াল আরেক অদ্ভুত প্রাণী। দেখতে অনেকটা কুমিরের মতো হলেও ঘড়িয়ালের মাথা কুমিরের মাথা থেকে চওড়া ও লম্বাটে। ঘড়িয়াল মিঠা পানির প্রাণী। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, চীন ও ভারতে ঘড়িয়াল আছে। বাংলাদেশের যমুনা ও পদ্মায় অল্পসংখ্যক ঘড়িয়ালের দেখা পাওয়া যায়। এরা খুব নিরীহ প্রাণী।

প্লাটিপাস: প্রাণীজগতের আরেক বিস্ময় প্লাটিপাস বা হংসচঞ্চু। এদের ঠোঁট হাঁসের ঠোঁটের মতো, পায়ের পাতাও হাঁসের পায়ের পাতার মতো। এরা পাখির মতো ডিম পাড়ে আর ছানারা মায়ের দুধ খায়। প্লাটিপাস দিনে গর্তে থাকে আর রাতে পানিতে ভেসে বেড়ায়। অস্ট্রেলিয়া ও তার কাছাকাছি দ্বীপ তাসমানিয়ায় হংসচঞ্চুর দেখা মেলে।

উপসংহার: প্রাণীজগতে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে—এমন জীবজন্তুর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমাদের দেশেও কিছু কিছু জীবজন্তু প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু কিছু প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের একান্ত কর্তব্য।

[লক্ষ করো: ‘সুন্দরবনের প্রাণী’ রচনা লেখার ক্ষেত্রে শুধু সুন্দরবনে পাওয়া যায়, এমন প্রাণীর কথা লিখতে হবে।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন