বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার একটি প্রশ্নপত্রে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হককে হেয় করে একটি প্রশ্ন প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন, কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খালেদ হোসাইন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈকত আরেফিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আর রাজী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় সরকার, প্রাবন্ধিক খন্দকার স্বনন শাহরিয়ার, কবি রাজিয়া সুলতানা, কথাসাহিত্যিক কাজী রাফি, কবি মতিন রহমান, লেখক মোজাম্মেল হক নিয়োগী, কবি স্বপঞ্জয় চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সচিব নারায়ণ চন্দ্র বর্মা প্রমুখ।


৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় বাংলা-২ (সৃজনশীল) পরীক্ষার একটি প্রশ্নপত্রে লেখক-কথাসাহিত্যিক আনিসুল হককে নিয়ে এমনভাবে প্রশ্ন করা হয়েছে, যাতে তাঁকে হেয় করা হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনা চলছে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘প্রশ্নপত্রে এমন প্রশ্ন দেখে আমরা হতবিহ্বল। একজন খ্যাতিমান লেখককে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ কীভাবে করা সম্ভব, তা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এর থেকেও বড় বিস্ময় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এসবের মধ্য দিয়ে কী শেখানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের? এটা খুব স্পষ্ট যে, এভাবে সৃজনশীল প্রশ্নের মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। যা আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অন্যকে হেয় করার প্রবণতা বাড়িয়ে তুলবে।’


এ ধরনের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও ছাপার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই এর দায় এড়িয়ে যেতে পারে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা কোনো দায়সারা বক্তব্য নয়, এরূপ প্রশ্ন প্রণয়ন ও ছাপার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ সেই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিবৃতিদাতারা।