বছরের প্রথম দিন মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থী সব বই পাবে না

বছরের প্রথম দিনে বিতরণ হবে নতুন পাঠ্যবই। শ্রেণিভেদে বই গুছিয়ে রাখছেন শিক্ষকেরা। গতকাল রংপুর শহরতলির শিশুরত্ন কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড স্কুলেছবি: মঈনুল ইসলাম

খ্রিষ্টীয় নববর্ষের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার। দেশের নতুন শিক্ষাবর্ষেরও প্রথম দিন আজ। তবে এদিন মাধ্যমিকের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পাবে না। কেননা, গত বছরের শেষ দিন গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত মাধ্যমিকের ২৭ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ করতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

অবশ্য এনসিটিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের সব বই হাতে পেতে পুরো জানুয়ারি মাস লেগে যেতে পারে। এমনকি তা ফেব্রুয়ারিতেও গড়াতে পারে।

আরও পড়ুন

দেড় দশক ধরে শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন ঘটা করে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে বই তুলে দিচ্ছিল এনসিটিবি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে নতুন বই হাতে নিয়ে খুশি হয়ে বাড়ি ফিরত শিক্ষার্থীরা। এ জন্য নতুন বছরের প্রথম দিন দেশজুড়ে শিক্ষাঙ্গনে উৎসবের আমেজ দেখা যেত। তবে দু-তিন বছর ধরে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। বিদায়ী বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের সব পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে প্রায় তিন মাস লেগে যায়। এতে পড়াশোনায় ক্ষতির মুখে পড়ে শিক্ষার্থীরা; সমালোচনার মুখে পড়ে সরকারও।

প্রাথমিকের দুই শিক্ষার্থী বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পেয়ে খুশি। পুরান ঢাকার রাজার দেউরি সরকারী বিদ্যালয়
ছবি: দীপু মালাকার

এই অভিজ্ঞতা থেকে এবার পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া আগেভাগেই শুরু করা হয়েছিল। গত নভেম্বরের মধ্যে সব পাঠ্যবই ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী দরপত্রের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে মূল্যায়নের কাজও শেষ করা হয়েছিল। তবে শেষ সময়ে (নভেম্বরে) ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে বই ছাপানোর কাজ শুরু হয়। এ কারণে এবারও মাধ্যমিকের সব পাঠ্যবই সময়মতো সরবরাহ করতে পারছে না এনসিটিবি।

অবশ্য এনসিটিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের সব বই হাতে পেতে পুরো জানুয়ারি মাস লেগে যেতে পারে। এমনকি তা ফেব্রুয়ারিতেও গড়াতে পারে।

সংকট মাধ্যমিকের বই নিয়ে

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য প্রাথমিক স্তরে মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি। এরই মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব বই পাবে। তবে সংকট মাধ্যমিক স্তরের বই নিয়ে।

মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪। এর মধ্যে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ৭২ দশমিক ৭১ শতাংশ বই। যদিও গতকাল পর্যন্ত ছাপা হয়েছে প্রায় ৮৮ শতাংশ বই।

নিয়মানুযায়ী, পাঠ্যবই ছাপার পর সেগুলো বাঁধাই করা হয়। এরপর সরবরাহের আগে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহ-পূর্ব পরিদর্শন (পিডিআই) সম্পন্ন করতে হয়। পিডিআইসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষে বই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়। এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের ৮১ দশমিক ১৩ শতাংশ বইয়ের পিডিআই সম্পন্ন হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের বইয়ের মধ্যে ষষ্ঠ এবং নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপা ও বিতরণের কাজ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছে। ইবতেদায়ি স্তরের বই নিয়েও সংকট নেই। তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপা ও সরবরাহের কাজ পিছিয়ে রয়েছে। সপ্তম শ্রেণির মোট বইয়ের সংখ্যা ৪ কোটি ১৫ লাখের বেশি এবং অষ্টম শ্রেণির মোট পাঠ্যবই ৪ কোটি ২ লাখের বেশি।

মাধ্যমিক স্তরে (ইবতেদায়িসহ) মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪। এর মধ্যে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে ৭২ দশমিক ৭১ শতাংশ বই। যদিও গতকাল পর্যন্ত ছাপা হয়েছে প্রায় ৮৮ শতাংশ বই।

‘সব শিক্ষার্থীই প্রথম দিন বই পাবে’

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে অন্তত কয়েকটি করে বই তুলে দেওয়া হবে। তবে মাধ্যমিক বিশেষ করে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে আরও কিছুদিন লাগবে।

এনসিটিবির সচিব অধ্যাপক মো. সাহতাব উদ্দিনও অভিন্ন কথা বলেন। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের পরিকল্পনা হলো বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া—সেটা দুটি, তিনটি, পাঁচটি যা-ই হোক। সেভাবেই কার্যক্রম চালিয়েছেন। বিতরণ পর্যায়ে কোনো অসুবিধা না হলে সব শিক্ষার্থীই বছরের প্রথম দিন নতুন বই পাবে। সাহতাব উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি স্তর এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শতভাগ পাঠ্যবই সরবরাহ হয়ে গেছে। ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বইও ৯০ শতাংশের বেশি চলে গেছে। আর সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ৬০ শতাংশের বেশি বই চলে গেছে।

অবশ্য এনসিটিবির কর্মকর্তারা আশা করছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা সব বই হাতে পাবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষার্থীদের সব বিষয়ের সব বই হাতে পেতে পুরো জানুয়ারি মাস লেগে যেতে পারে। এমনকি তা ফেব্রুয়ারিতেও গড়াতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে আগের মতো বছরের প্রথম দিনে উৎসব করে শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হচ্ছে না। বিদ্যালয়গুলোতে বই পৌঁছে দেওয়া হয়, পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়।

আরও পড়ুন