চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম, এমফিলে মাসে ২০০০০, পিএইচডিতে ৪০০০০ টাকা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গ্রাফিক্স: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জানুয়ারি–২০২৬ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভাগ ও ইনস্টিটিউট এবং জামাল নজরুল ইসলাম উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে।

মেধার ভিত্তিতে এমফিল প্রোগ্রামে মাসিক ২০ হাজার টাকা হারে দুই বছর এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে মাসিক ৪০ হাজার টাকা হারে তিন বছরের গবেষণা বৃত্তি প্রদান করা হবে।

১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এমফিল ও পিএইচডি (পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন) প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। আগ্রহী প্রার্থীদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে হবে। পরে আবেদন ফরম পূরণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অনুকূলে অগ্রণী ব্যাংক অথবা জনতা ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে ইস্যুকৃত ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারসহ আগামী ৫ মার্চের মধ্যে রেজিস্ট্রার অফিসের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখায় অফিস সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের পরে প্রাপ্ত বা অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা—

এ বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বাংলাদেশের অন্য যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমমানের ডিগ্রিধারী প্রার্থীরাও এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির ক্ষেত্রে নিজ নিজ বিভাগ/ইনস্টিটিউট/গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক গবেষণা প্রস্তুতি এবং বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউট/গবেষণাকেন্দ্রে নগদ জমা দিতে হবে।

আবেদনে ভর্তির যোগ্যতা—

১.

এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম বা সমমানের পরীক্ষায় প্রতিটিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ৫০ এবং অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় মোট সিজিপিএ/জিপিএ কমপক্ষে ৬ দশমিক ৫০ এবং প্রতিটিতে ন্যূনতম সিজিপিএ/জিপিএ ৩ থাকতে হবে।

২.

৫ বছর মেয়াদি এমবিবিএস/বিডিএস/বি.ফার্ম, ডিগ্রিধারী প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।

৩.

শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অনার্স–মাস্টার্স উভয় পর্যায়ে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি এবং এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ নম্বরসহ দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে।

৪.

বিদেশি প্রার্থীদের আইইএলটিএসে স্কোর ন্যূনতম ৬/টোয়েফলে স্কোর ন্যূনতম ৫৫০/আইবিটি (iBT)-তে ন্যূনতম স্কোর ৭৫ অথবা কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের ইংরেজি দক্ষতার সনদ থাকতে হবে। ইংরেজি ব্যতীত অন্য ভাষায় যেসব গবেষক থিসিসের কাজ সম্পাদন করবেন তাঁদের জন্য এ ধারাটি প্রযোজ্য হবে না।

আরও পড়ুন

পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা—

এ বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বাংলাদেশের অন্য যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীগণ পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির ক্ষেত্রে নিজ নিজ বিভাগ/ইনস্টিটিউট/গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক গবেষণা প্রস্তুতি এবং বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউট/গবেষণাকেন্দ্রে নগদ জমা দিতে হবে।

ভর্তির সাধারণ যোগ্যতা—

১.

পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম বা সমমানের পরীক্ষায় প্রতিটিতে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ৫০ এবং অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় মোট সিজিপিএ/জিপিএ কমপক্ষে ৬ দশমিক ৭৫ এবং প্রতিটিতে ন্যূনতম সিজিপিএ/জিপিএ ৩ দশমিক ২৫ থাকতে হবে।

২.

শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পর্যায়ে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি থাকতে হবে। এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম বা সমমানের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫৫% নম্বরসহ দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে।

৩.

বিদেশি প্রার্থীদের আইএলটিএস স্কোর ন্যূনতম ৬/টোয়েফল স্কোর ন্যূনতম ৫৫০/আইবিটি (iBT)-তে ন্যূনতম স্কোর ৭৫ অথবা কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সমমানের ইংরেজি দক্ষতার সনদ থাকতে হবে। ইংরেজি ব্যতীত অন্য ভাষায় যেসব গবেষক থিসিসের কাজ সম্পাদন করবেন তাঁদের জন্য এ ধারাটি প্রযোজ্য হবে না।

আরও পড়ুন

বিভিন্ন এন্ট্রি ট্র্যাকে ভর্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা—

১.

দেশি/বিদেশি স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমফিল ডিগ্রিধারী অথবা বিদেশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় হতে দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রিধারী আবেদনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

২.

স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মোট সিজিপিএ/জিপিএ ৭ এবং প্রতিটিতে ন্যূনতম সিজিপিএ/জিপিএ ৩ দশমিক ২৫ এবং peer-reviewed journal-এ প্রকাশিত কমপক্ষে একটি গবেষণা প্রবন্ধ থাকতে হবে।

৩.

স্বীকৃত কলেজ/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে পাঁচ বছরসহ সাত বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকগণ এবং উক্ত শিক্ষকতা জীবনে peer-reviewed journal-এ প্রকাশিত কমপক্ষে একটি গবেষণা প্রবন্ধ থাকতে হবে।

৪.

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা যাঁদের peer-reviewed journal-এ প্রকাশিত কমপক্ষে একটি গবেষণা প্রবন্ধ আছে তাঁরা আবেদনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

৫.

পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস/বিডিএস/ বি.ফার্ম ডিগ্রিধারী প্রার্থীগণ, যাঁদের peer-reviewed journal-এ দুটি প্রকাশনা আছে তাঁরা আবেদনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

আরও পড়ুন

৬.

সরকারি/সরকারি-অধিভুক্ত/স্বায়ত্তশাসিত গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে তিন বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গবেষণা কর্মকর্তাবৃন্দ, যাঁদের স্বীকৃত মানের জার্নালে প্রকাশিত কমপক্ষে তিনটি গবেষণা প্রবন্ধ আছে তাঁরা আবেদনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

৭.

বিদেশি কোনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্যান্ডউইচ পিএইচডি’ প্রোগ্রামের অধীন পিএইচডি ছাত্র হিসেবে নিবন্ধিত গবেষকেরা আবেদনের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

চাকরিরত প্রার্থীদের তাঁদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। পূর্ণকালীন গবেষক হিসেবে এমফিল/পিএইচডি প্রোগ্রামে চাকরিরত প্রার্থী ছুটি পাবেন মর্মে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হতে সম্মতিপত্র অবশ্যই আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

এ ছাড়া এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের অর্ডিন্যান্স, ভর্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য নিয়ম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.cu.ac.bd ) থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এ–সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে প্রশাসনিক ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থিত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শাখায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।