সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের জমজমাট বিজ্ঞান উৎসব
সৃজনশীল উদ্ভাবনের ক্ষুধা নিয়ে ঢাকার সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের টাইটানিয়াম সায়েন্স ক্লাব জমজমাট এক বিজ্ঞান উৎসবের আয়োজন করে। তৃতীয় আন্তবিদ্যালয় বিজ্ঞান উৎসব ‘নোভা ২০২৬’ নামের এই আয়োজন ১৫ জানুয়ারি থেকে স্কুলটির প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।
এ উৎসবে ঢাকার ২৫টি স্কুল থেকে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। নোভা ২০২৬-এর মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে গিয়ে বিজ্ঞানকে বাস্তব ও সৃজনশীলভাবে অনুধাবনের সুযোগ করে দেওয়া।
বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি ছিল আকর্ষণীয় বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী, যেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক সমস্যা ও বৈজ্ঞানিক ধারণা নিয়ে নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ গবেষণা ও জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রদর্শিত প্রকল্পগুলো দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. শারমিদ নীলোৎপল। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার আহমেদ আলী হাসান। সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক এ এফ এম ইউসুফ হায়দার।
এ ছাড়া গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডেভিড ডোল্যান্ড, বিশেষ অতিথি ছিলেন এসিআই মোটরসের অ্যাসিস্ট্যান্ট মার্কেটিং ম্যানেজার মিরাজুল আলম। তারকা অতিথি হয়ে অনুষ্ঠানে আলো ছড়িয়ে গেছেন আমিন হান্নান, কামরুন নাহার ডানা ও আলতাফ উদ্দিন আক্রমী (সম্পদ)। অনুষ্ঠান শেষে ব্যান্ড দল নেমেসিস সংগীত পরিবেশন করে।
উৎসবে টাইটানিয়াম সায়েন্স ক্লাবের চিফ মডারেটর ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষক জামিউন ইসলাম শৈলির তত্ত্বাবধানে নতুনত্ব যোগ করে জনপ্রিয় সায়েন্স ও অ্যানিমে কুইজ, সঙ্গে ছিল অবস্ট্যাকল বট রেসিং। এমন অভিনব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ ইভেন্ট শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উৎসাহ ধরে রাখে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল ব্রাদার চন্দন বেনেডিক্ট গোমেজ বলেন, নোভা ২০২৬ প্রমাণ করেছে, বিজ্ঞান শিক্ষা তখনই আরও কার্যকর হয়, যখন তা হাতেকলমে শেখা ও শিক্ষার্থী–নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সফল এ আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের পথ সুগম করবে বলে আশা করা যায়।
এ আয়োজনের অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে ছিল প্রথম আলো। স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল এসিআই মোটরস ও প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ। সার্বিক সহায়তায় আরও ছিল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নেসলে বাংলাদেশ ও এটিএন নিউজ।