চাকরি নিয়ে চুয়েটে স্নাতকদের দোরগোড়ায় নানা প্রতিষ্ঠান

গতকাল শনিবার চুয়েটে চাকরি মেলায় প্রাণ, বিএসআরএম, ইস্পাহানিসহ ১৫টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মেলায় সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী সিভি জমা দেন।

কারও হাতে গুছিয়ে রাখা সিভি, কারও কাঁধে ব্যাগ, চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কেউ দাঁড়িয়ে আছেন পছন্দের প্রতিষ্ঠানের স্টলের সামনে, আবার কেউ করপোরেট প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তুলে ধরছেন নিজের দক্ষতা ও সম্ভাবনার কথা। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল মাঠ যেন পরিণত হয়েছে এক ক্ষুদ্র কর্মবাজারে—চারদিকে রঙিন ব্যানার, সারিবদ্ধ স্টল, করপোরেট–জগতের অভিজ্ঞ মুখ আর নতুন স্বপ্নে ভরপুর শত শত শিক্ষার্থীর আনাগোনা।

গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায় এমনই প্রাণবন্ত চিত্র। সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল ঘিরে ভিড় করেন চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী ও নবীন গ্র্যাজুয়েটরা। কোথাও সিভি জমা দেওয়ার ব্যস্ততা, কোথাও আবার চলছে সরাসরি ক্যারিয়ার–বিষয়ক আলোচনা। কর্মচাঞ্চল্য, উৎসাহ ও প্রত্যাশায় মুখর এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে চুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাব আয়োজিত চাকরি মেলা।

আরও পড়ুন

দুই দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার উৎসব ২০২৬’–এর দ্বিতীয় দিন সকাল ৯টায় শুরু হয় এই মেলা। প্রাণ, বিএসআরএম, কেওয়াই স্টিল, ইস্পাহানি, নাভানাসহ ১৫টির বেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের স্টলে সকাল থেকেই ছিল শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ সিভি জমা দিচ্ছেন, কেউ অংশ নিচ্ছেন তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারে, আবার কেউ শিল্পক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে কথা বলছেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। আয়োজকেরা জানান, অনলাইন ও সরাসরি মিলিয়ে এ আয়োজনে সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী সিভি জমা দিয়েছেন।

একই দিন দুপুরের বিরতির পর বেলা আড়াইটার দিকে উচ্চশিক্ষা ও করপোরেট সেশন আয়োজিত হয়। সবশেষে সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘চুয়েট ক্যারিয়ার উৎসব ২০২৬’।

এর আগে গত শুক্রবার উৎসবের প্রথম দিন সকালে ‘রবি আজিয়াটা লিমিটেড’–এর প্রতিনিধিরা নিজেদের কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে করপোরেট জীবনে প্রবেশের বাস্তব চিত্র, দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব ও ক্যারিয়ার গঠনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। বিকেলে ‘প্রেজেন্টএক্স’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত বিসিএস, উদ্যোক্তা ও ব্যাংক জব সেশন আয়োজিত হয়। এ সময় বক্তব্য দেন এন মোহাম্মদ গ্রুপের সিএফও মোহাম্মদ ফারহান তৈয়ব, এজিএম মো. জাকির হোসাইন ও মো. নিয়াজ মোর্শেদ।

চাকরি মেলায় সিভি জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ। সিভি জমা দিয়ে রাখলাম। নিয়োগ পাওয়ার আশা রাখছি। ক্যাম্পাসে বসেই এভাবে চাকরিতে নিয়োগ পেয়ে গেলে ভালোই লাগবে।’

এদিকে ভবিষ্যতের চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা নিতে উৎসবে সিভি জমা দিতে দেখা গেল নগর ও পরিকল্পনা বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিহা তাসফিয়া হককে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এখনো দুই বছর পড়াশোনা বাকি। চাকরি পাওয়ার চিন্তা তো আছেই। যেহেতু ক্যাম্পাসে বসেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা ও সিভি জমা দেওয়ার সুযোগ মিলছে, তাই অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য জমা দিলাম।’

আরও পড়ুন

এদিকে চাকরি মেলায় অংশ নেওয়া এন মোহাম্মদ গ্রুপের ব্র্যান্ড উপস্থাপক সজীব চৌধুরী এমন আয়োজনের বেশ প্রশংসা করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। এখানে এসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ ও অংশগ্রহণ দেখে ভালো লাগছে। আমাদের কাছে অনেক সিভি জমা পড়ছে। আয়োজকদের ব্যবস্থাপনাও বেশ গোছানো, আর প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতাও পাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে চুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অংকন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাকরি মেলায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও দেশ–বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি সত্যিই আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির সুযোগই তৈরি করে না; বরং তাদের বাস্তব করপোরেট পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেয়, যোগাযোগে দক্ষতা বাড়ায় এবং নিজেদের প্রস্তুত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। আমরা বিশ্বাস করি, এমন উদ্যোগ নিয়মিতভাবে আয়োজন করা গেলে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনের পথ আরও সুগম হবে এবং তারা নিজেদের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারবে।’

উল্লেখ্য, এ আয়োজনে শীর্ষ পৃষ্ঠপোষক ছিল ইস্পাহানি, সহ–পৃষ্ঠপোষক এনার্জিপ্যাক। সহযোগিতায় ছিল প্রথম আলো। ফুড পার্টনার ছিল আস্তানা। আর এন্টারটেইনমেন্ট পার্টনার ফয়’স লেক কনকর্ড।

আরও পড়ুন