default-image

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কুমিল্লা জেলার অটোরিকশাচালক বাবার যমজ ছেলে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন যমজ দুই ভাই আরিফ ও শরীফ। তাঁদের এ খুশির সংবাদ শুনে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনসহ জেলা ও উপজেলার চিকিৎসকসমাজের সবাই আনন্দিত হয়েছেন।

মেধাবী যমজ ভাইদের বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মানরা গ্রামে। তাঁদের বাবার নাম বিল্লাল হোসেন। পেশায় তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। তাঁর যমজ দুই ছেলে আরিফুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাঁদের এমন সফলতায় মা-বাবা ভীষণ খুশি।

২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে উপজেলার মান্দারগাঁও উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পান আরিফ ও শরিফ। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজে। সেখান থেকেও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পান দুই ভাই। ছেলেদের এমন সফলতায় মা-বাবা ভীষণ খুশি। বাকি দুই ভাইবোনের মধ্যে সাইফুল ইসলাম মাদ্রাসায় এবং আমেনা আক্তার প্রাইমারি স্কুলে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আরিফ ও শরিফ বাসসকে জানান, আরিফ দেশের মধ্যে ৮২২তম হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে, শরিফ ১১৮৬তম হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাঁরা চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চান। বাবার পরিশ্রম, মায়ের যত্ন আর শিক্ষকদের সহযোগিতা তাঁদের লেখাপড়ার সাহস জুগিয়েছে। তাঁরা সবার দোয়া প্রার্থী।

বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে কষ্ট করে এ পর্যন্ত ছেলেদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। তবে এখন ছেলেদের ভর্তিসহ লেখাপড়ার খরচ নিয়ে তিনি চিন্তায় আছেন।

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গত রোববার। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন ৪৮ হাজার ৯৭৫ জন। তাঁদের মধ্যে প্রথম ৪ হাজার ৩৫০ জন উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীকে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির জন্য নির্বাচন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

পরীক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন