বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন
একুশের গল্প
# নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ছেলেবেলার তিন বন্ধু দিপু, বাবু ও আবু। এর মধ্যে বাবু খেলাধুলায় পারদর্শী, আবু চুপচাপ স্বভাবের আর দিপু প্রচুর গল্প করতে ভালোবাসে। যেখানেই যায়, অল্প সময়েই আসর জমিয়ে ফেলে। ফলে খুব সহজেই সে সবার প্রিয় হয়ে ওঠে। এ ছাড়া কলেজেও তার জনপ্রিয়তা কম নয়। তবে আবু এ ক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যতিক্রম।
প্রশ্ন
ক. ‘ওস্তাদ’ শব্দের অর্থ কী?
খ. রাহাত তপু বলে আর্তনাদ করে উঠল কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের আবুর সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ গল্পের তপুর বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ গল্পের মূলভাবকে কতটা ধারণ করতে পেরেছে? মূল্যায়ন করো।
উত্তর
ক. ‘ওস্তাদ’ শব্দের অর্থ হলো গুরু।
খ. চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে তপু লুটিয়ে পড়ায় রাহাত তপু বলে আর্তনাদ করে উঠল।
মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে গল্পকথক, রাহাত ও তপু মিছিলে যোগ দেয়। কিন্তু মিছিলটি হাইকোর্টের মোড় পৌঁছাতেই পুলিশ সেই মিছিলের ওপর গুলি চালায়। এ অবস্থায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তপুর কপালে গুলি লেগে একটি গর্তের সৃষ্টি হয়, এতে প্ল্যাকার্ডসহ তপু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। চোখের সামনে সেই দৃশ্য দেখে হতবাক রাহাত তপু বলে আর্তনাদ করে উঠল।
গ. মুখর স্বভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের আবুর সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ গল্পের তপু চরিত্রের বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
‘একুশের গল্প’ রচনার প্রধান চরিত্র তপু। তপু চরিত্রকে কেন্দ্র করেই গল্পটির কাহিনি অগ্রসর হয়েছে। এ গল্পে তপুকে আমরা একজন মুখর ও স্বপ্নবান তরুণ হিসেবে দেখতে পাই। বলতে গেলে, তপুই এ গল্পের প্রাণ।
উদ্দীপকের দিপু, বাবু ও আবু তিনজন ছেলেবেলার বন্ধু। তাদের মধ্যে দিপু আড্ডাবাজ মনোভাবাপন্ন হলেও আবু কিছুটা চুপচাপ স্বভাবের। এ কারণে কলেজেও তার জনপ্রিয়তা অন্য বন্ধুদের চেয়ে অনেকটাই কম। পক্ষান্তরে ‘একুশের গল্প’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপু অত্যন্ত মুখর ও আড্ডাবাজ স্বভাবের। গল্প করতে বসলে তার সময় শেষ। অনেক সময় তাকে জোর করে থামাতে হয়। তপুর এই আড্ডাবাজ ও মুখর স্বভাব উদ্দীপকের আবুর বিপরীত। এদিক থেকে আবুর সঙ্গে আলোচ্য গল্পের তপুর বৈসাদৃশ্য প্রতীয়মান হয়।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ গল্পের মূলভাবকে আংশিক ধারণ করতে পেরেছে।
‘একুশের গল্প’ গল্পের পটভূমি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এ আন্দোলনে যোগ দিয়ে বেশ কয়েকজন ভাষাসৈনিক শহিদ হন। গল্পটিতে তপুর আত্মোন্নতির মধ্য দিয়ে গল্পকার তাদের আত্মদানের মাহাত্ম্যকেই আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকে দিপু, বাবু ও আবু নামের তিন বাল্যবন্ধুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে বাবু খেলাধুলায় পটু। আবু কিছুটা চুপচাপ স্বভাবের আর দিপু আড্ডা দিতে, প্রচুর গল্প করতে ভালোবাসে। ফলে সে যেখানেই যায়, অল্প সময়ের মধ্যেই সে আসর জমিয়ে ফেলে। এ কারণে কলেজেও সে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে আবু চুপচাপ স্বভাবের হওয়ায় তার জনপ্রিয়তা তুলনামূলক কম।
একুশের গল্পটি রচিত হয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যেখানে গল্পকথক, রাহাত ও তপু—এই তিনজন দেশপ্রেমিক যুবক মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিলে যোগ দেয় এবং দুর্ভাগ্যক্রমে তপু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এর বাইরে গল্পটিতে তপুর বিবাহিত জীবন, তার বাক্পটুতাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। পক্ষান্তরে উদ্দীপকে দিপুর চরিত্রের মধ্য দিয়ে তপুর মুখর স্বভাবের দিকটিই ফুটে উঠেছে, এ গল্পের উল্লিখিত অন্যান্য বিষয় নয়। সেদিক বিচারে উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ গল্পের মূলভাবকে আংশিক ধারণ করতে পেরেছে।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা