এসএসসির খাতা ঠিকমতো না দেখা পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেনছবি: বিজ্ঞপ্তি

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এ বছর এসএসসি ও সমমানের খাতা পুনর্মূল্যায়নে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। এ থেকে বোঝা যায়, খাতা মূল্যায়নে সমস্যা ছিল। যেসব পরীক্ষক খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাঁদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া পরীক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রতিবছরই পুনর্নিরীক্ষণে কিছু পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়; কিন্তু এবার শুধু আবেদনকারীর সংখ্যাই রেকর্ড হয়নি, ফল পরিবর্তনের সংখ্যাও আগের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। এরপর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। প্রথম ফল প্রকাশের সময় ফেল করা ৪ হাজার ৫৮৫ পরীক্ষার্থী এখন পাস করেছে। গতবার এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২০৭, অর্থাৎ এবার ফেল থেকে পাস করার সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। এ ছাড়া ফল বা গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের এবং নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর এত ব্যাপক পরিবর্তন কেবল পরীক্ষার্থীদের ফল সংশোধনের ঘটনা নয়, এটি এসএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথম দফায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় পরীক্ষকদের দেওয়া নম্বর কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

এ রকম অবস্থায় আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। ৫৭ শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককে সনদ, ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৫২৫টি কলেজের ৪ হাজার ৯২১ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের উপস্থিতি এবং শিক্ষকেরা কীভাবে পড়াচ্ছেন, তা কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থেকেই শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দেশের বিপুল শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাজার চাহিদাভিত্তিক কোর্স চালু করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪টি নতুন বই পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের কারিকুলাম পরিমার্জন করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ জন্য গবেষণা খাতেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।