নীলগঞ্জ আসলে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

এসএসসি পরীক্ষাফাইল ছবি

বাংলা ১ম পত্র: বর্ণনামূলক প্রশ্ন

সহপাঠ–১৯৭১

প্রশ্ন

ক. খুনের বিচার করতে মেজর এজাজ এতটা আগ্রহী হয়েছিল কেন? 

খ. ‘নীলগঞ্জ আসলে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।’—ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর–ক

নিজেকে ন্যায়বিচারক হিসেবে দেখানোর পাশাপাশি গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে মেজর এজাজ খুনের বিচার করতে আগ্রহী হয়েছিল। ‘১৯৭১’ উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করার পর স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও স্কুলমাস্টারকে ডেকে এনে নির্যাতন করে মেজর এজাজ। তার প্রথম উদ্দেশ্য ছিল যেকোনো উপায়ে গ্রামের মানুষকে ভড়কে দেওয়া। এ কাজে সে সামনে নিয়ে আসে মুক্তিবাহিনীর হাতে তার বন্ধু মেজর বখতিয়ারের বন্দী হওয়ার কাহিনি, যার সঙ্গে নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। তখনই তার সামনে এসে যায় চিত্রা বুড়ির ছেলে হত্যার প্রসঙ্গটি। কৈবর্তপাড়ায় ঘটনায় অন্যরা সাধারণত নাক গলায় না—এই সুবাদে সে নিজেকে ন্যায়বিচারক হিসেবে দেখাতে খুনের দায়ে মনা কৈবর্তকে নির্মমভাবে দিবালোকে গুলি করে হত্যা করে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্তরালে মূলত সে গ্রামবাসীর মনে চরম আতঙ্ক ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছে।

আরও পড়ুন

উত্তর–খ

স্বাধীনতা–উত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী হুমায়ূন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘১৯৭১’ শীর্ষক উপন্যাসে তিনি গ্রামীণ পটভূমিতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি আলেখ্য রচনা করেছেন। অন্য আর দশটি সাধারণ অজগ্রামের মতোই ‘১৯৭১’ উপন্যাসের নীলগঞ্জ গ্রাম। নীলগঞ্জের মানুষের জীবনযাত্রায় রাজনীতির কোনো ছোঁয়া না লাগলেও পাকিস্তানি মিলিটারি প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে গ্রামটি যেন একখণ্ড যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়।

৩০–৪০টি পরিবারের একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ নীলগঞ্জ। বিস্তীর্ণ জলাভূমি গ্রামটি কাস্তের মতো দুই দিকে ঘিরে আছে। এখানকার প্রায় সবাই কৃষিকাজ করে। এখানে শীতকালে প্রচুর রবিশস্য ফলে। গ্রামের ঘরবাড়িও অতি সাধারণ।

এ রকম একটি গ্রামেই একদিন ভোর হতে না হতেই মেজর এজাজের নেতৃত্বে মিলিটারি প্রবেশ করে। প্রথমেই তাদের হাতে লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হয় ইমাম সাহেব ও আজিজ মাস্টার। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রহসন করে মনা কৈবর্ত ও তার ছোট ভাইকে ইমাম ও আজিজ মাস্টারের সামনে গুলি করে হত্যা করে। এর মাধ্যমে পুরো গ্রামে একটা অদৃশ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে চায় সে। মাস্টারকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করা, নীলু সেনকে হত্যা করা, সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও শ্যালিকার ওপর পাশবিক নির্যাতন করা ইত্যাদির মাধ্যমে মিলিটারিরা পুরো গ্রামটিকেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে।

ওপরের আলোচনায় নীলগঞ্জ গ্রামের যে চিত্র আমরা দেখতে পাই, এমনটি আসলে মুক্তিযুদ্ধকালীন সমগ্র বাংলায় চিত্রিত হয়েছে। বাঙালি তরুণ রফিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল বাংলাদেশের অনেক তরুণ। তাই বলা যায়, নীলগঞ্জ আসলে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

*মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা

আরও পড়ুন