এসএসসি ২০২৬। বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন (গদ্য : সুভা)—সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরঅলংকরণ: মাসুক হেলাল

বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

গদ৵: সুভা

সদা হাস্যোজ্জ্বল ও অদম্য সাহসী তাহমিদ ক্লাসে সবার প্রিয়মুখ। বিতর্ক, আবৃত্তি, গান, খেলাধুলা ইত্যাদিতে তাহমিদ এগিয়েই থাকে; কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সড়ক দুর্ঘটনায় তাহমিদ একটি পা হারায়। তার পরিবারও পড়ে যায় ভীষণ দুশ্চিন্তায়; কিন্তু তার বন্ধুরা তাকে সাহস জোগায় এবং তার পাশে দাঁড়ায়। বন্ধুদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় তাহমিদ এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়।

প্রশ্ন

ক. ‘শুক্লাদ্বাদশী’ অর্থ কী?

খ. ‘আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি।’— সুভার এরূপ মনোভাবের কারণ কী?

গ. ‘সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের তাহমিদের সাদৃশ্য কোথায়? বর্ণনা করো।

ঘ. ‘উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা ও তার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না।’—মন্তব্যটি ‘সুভা’ গল্প অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।

আরও পড়ুন

উত্তর

ক. ‘শুক্লাদ্বাদশী’ শব্দের অর্থ চাঁদের ‘১২তম দিন’।

খ. বাক্‌প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সুভা প্রশ্নের মনোভাব পোষণ করত। মা–বাবার ছোট মেয়ে সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। নিজের এমন দুর্বলতায় সুভা নিজেকে অসহায় মনে করত। সে সাধারণের দৃষ্টিপথ থেকে নিজেকে সর্বদা গোপন করে রাখত। বাক্‌প্রতিবন্ধী হওয়াটাকে সে অভিশাপ মনে করত।

গ. উদ্দীপকের তাহমিদের শারীরিক অপূর্ণতার দিকটি ‘সুভা’ গল্পের সুভার প্রতিবন্ধিত্বের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ গল্পে সুভা বাক্‌প্রতিবন্ধী কিশোরী। সবাই তাকে অবজ্ঞা করত, প্রকাশ্যেই তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। ফলে সুভা হীনম্মন্যতায় ভুগত। সে নিজের ত্রুটির কথা ভেবে সর্বদা নিজেকে অন্যদের কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করত। উদ্দীপকের দুরন্ত কিশোর তাহমিদ সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারায়। তার পঙ্গুত্বের বিষয়টি পরিবারকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। শারীরিক অপূর্ণতার কারণে তাহমিদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। বাস্তবতার এ দিকটি উদ্দীপকের তাহমিদের সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের সুভাকে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।

ঘ. উদ্দীপকের সহপাঠীদের মধে৵ সহানুভূতিশীল মানসিকতার প্রকাশ ঘটলেও ‘সুভা’ গল্পে সুভার নিকটজনদের মধে৵ তা না থাকায় প্রশ্নের মন্তব্যটি যথার্থ হয়ে উঠেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘সুভা’ গল্পে সুভার প্রতিবন্ধিত্বের বিষয়টি কেউ সহজে মেনে নিতে পারেনি। ফলে সুভার সামনেই স্বজনেরা সুভার বিষয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করা শুরু করেছিল। এর প্রভাবে সুভার মা–ও সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। সবার এরূপ মনোভাবের কারণে সুভাও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল এবং বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল।

উদ্দীপকে আমরা দেখি, সড়ক দুর্ঘটনায় তাহমিদ পা হারালে তার পাশে দাঁড়িয়েছিল সবাই। সহপাঠীদের উৎসাহ ও সাহস তাহমিদকে নতুনভাবে প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।

ফলে নিজের ত্রুটির বিষয়টিকে তাহমিদের আর দুর্বলতা মনে হয়নি। তাই সে আত্মপ্রত্যয়ী ছিল এবং এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হতে পেরেছিল।

উদ্দীপকের তাহমিদের সহপাঠীরা সহানুভূতি নিয়ে তার পাশে দাঁড়ালেও ‘সুভা’ গল্পের সুভার ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম দেখা যায়। সুভার প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি সবাই মেনে না নিয়ে উল্টো তার সমালোচনা করে। প্রতিবেশীদের হিংসাত্মক মনোভাবের কারণে তাকে সপরিবার নিজ জন্মস্থান ছেড়ে কলকাতায় চলে যাওয়ার বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। উদ্দীপকের তাহমিদ সহপাঠীদের উৎসাহে সাফল্য লাভে সক্ষম হয়। এ গল্পের সুভাকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় অসহযোগিতার কারণে। প্রতিবেশীদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা পেলে সুভার জীবন এতটা কষ্টের হতো না। তাই বলা যায়, ‘উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা ও তার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না।’—প্রশ্নের এই মন্তব্য যথার্থ।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা