বাংলা ২য় পত্র: ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি (পদ)
প্রশ্ন: গঠনবৈশিষ্ট্য অনুসারে ক্রিয়াপদ কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর: গঠনবৈশিষ্ট্য অনুসারে ক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক. যৌগিক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া একটি অসমাপিকা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া মিলে গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন: অন্ধকারে এখানে কেঁপে উঠছে রজনীগন্ধা। সাইরেন বেজে উঠল।
খ. সংযোগমূলক বা মিশ্র ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধনাত্মক শব্দের সঙ্গে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে সংযোগমূলক বা মিশ্র ক্রিয়া বলে। যেমন: দর্শন করা, প্রীত হওয়া, গান গাওয়া।
প্রশ্ন: ক্রিয়া বিশেষণ কাকে বলে? অর্থ ও অন্বয়গতভাবে ক্রিয়া বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: যে শব্দ বাক্যের ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন: সে দ্রুত দৌড়াতে পারে, ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
অর্থ ও অন্বয়গতভাবে ক্রিয়া বিশেষণকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। যথা: ক. ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনো ক্রিয়া কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হয়, তাকে ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন: মামণি ভয়ে ভয়ে কথা বলছে।
খ. কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলা হয়। যেমন: তিনি সন্ধেবেলা বাড়িতে আসবেন।
গ. স্থানবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: যে ক্রিয়া বিশেষণ ক্রিয়ার স্থানকে বিশেষায়িত করে, তাকে স্থানবাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন: আমি দিনাজপুরে পড়াশোনা করেছি।
ঘ. সংযোজক ক্রিয়া বিশেষণ: দুটি বাক্যের সংযোগের ক্ষেত্রে যে ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়, তাকে সংযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন: কাজে তার মন নেই এবং সে কাজও পারে না।
ঙ. না–বাচক ক্রিয়া বিশেষণ: যে ক্রিয়া বিশেষণ বাক্যকে না–বাচক বৈশিষ্ট্য দেয়, তাকে না–বাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যেমন: তুলির সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়নি।
প্রশ্ন: আবেগ শব্দ কাকে বলে? উদাহরণসহ এর শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।
উত্তর: কোনো পদের সঙ্গে সম্বন্ধ না রেখে যে শব্দ মনের ভাব প্রকাশে স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে আবেগ শব্দ বলে। যেমন: মেয়েটির কী কষ্ট!
ভাবপ্রকাশের দিক থেকে আবেগ শব্দকে আটটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
ক. বিস্ময়সূচক আবেগ: যে ধরনের আবেগ শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার মনোভাব প্রকাশ করে, তাকে বিস্ময়সূচক আবেগ শব্দ বলে। যেমন: আরে! তুমি আবার কখন এলে?
খ. প্রশংসাবাচক বাক্য: যেসব আবেগ শব্দে প্রশংসার মনোভাব প্রকাশ পায়, তাকে প্রশংসাবাচক আবেগ শব্দ বলে। যেমন: বাহ্! রান্নাটি খুব সুস্বাদু হয়েছে।
গ. বিরক্তিবাচক শব্দ: যে শব্দ দ্বারা অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, সেসব শব্দকে বিরক্তিবাচক আবেগ শব্দ বলে। যেমন: ছি! এমন কাজটি তুমি করতে পারলে।
ঘ. সিদ্ধান্তবাচক আবেগ শব্দ: যেসব আবেগ শব্দ দ্বারা অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয়, যেসব শব্দকে বলা হয় সিদ্ধান্তবাচক আবেগ শব্দ। যেমন: বেশ, তোমার কথাই মানলাম।
ঙ. ভয় ও যন্ত্রণাবাচক আবেগ শব্দ: যে আবেগমূলক শব্দ দ্বারা আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ পায়, সেসব শব্দকে ভয় ও যন্ত্রণাবাচক আবেগ শব্দ বলে। যেমন: না, এ কষ্ট অসহ্য।
চ. করুণাবাচক শব্দ: যে শব্দ দ্বারা করুণা বা সহানুভূতিমূলক মনোভাব প্রকাশ পায়, সেসব শব্দকে করুণাবাচক আবেগ শব্দ বলে। যেমন: আহা! মেয়েটির মা-বাবা কেউ নেই।
ছ. সম্বোধনবাচক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ‘ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।’
জ. আলংকারিক আবেগ শব্দ: যে শব্দ দ্বারা ভাষার আলংকারিক সৌন্দর্য প্রকাশ পায়, তাকে আলংকারিক আবেগ শব্দ বলে। যেমন: দুর পাগল, এসব নিয়ে এত ভাবতে নেই।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা