এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬—অর্থনীতি: প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের প্রধান খনিজ সম্পদ
অর্থনীতি: সৃজনশীল প্রশ্ন
অধ্যায়–২
হবিগঞ্জের রশিদপুর এলাকায় রাস্তার পাশ দিয়ে রবিন তাঁর বাবার সঙ্গে হাঁটছিলেন। হঠাৎ ভিড় দেখে কাছে গিয়ে দেখলেন, একটি টিউবওয়েল দিয়ে পানি পড়ছে। একটি ছেলে ম্যাচের কাঠিতে আগুন ধরিয়ে টিউবওয়েলের কাছে ধরার সঙ্গে সঙ্গেই আগুন জ্বলে ওঠে। তখন রবিনের বাবা তাঁকে বলেন, বায়বীয় পদার্থ পানির সঙ্গে মিশেছে বলে এ ঘটনা ঘটছে।
প্রশ্ন
ক. অবস্তুগত সম্পদ কাকে বলে?
খ. অর্থনৈতিক ও অ–অর্থনৈতিক কার্যাবলির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করো।
গ. রবিনের দেখা সম্পদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উক্ত সম্পদের প্রাচুর্য একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়ক—যুক্তি দাও।
উত্তর
ক. যে দ্রব্য বা বিষয়গুলো আমাদের অভাব মেটায়, যা পেতে আমাদের অর্থ ব্যয় করতে হয় এবং যা দৃশ্যমান নয়, তাকে অবস্তুগত সম্পদ বলে।
খ. মানুষ জীবিকা সংগ্রহের জন্য যেসব কার্যাবলি সম্পাদন করে অর্থাৎ যে কাজের বিনিময়ে অর্থ উপার্জিত হয়, তাকে অর্থনৈতিক কাজ বলে। অন্যদিকে যেসব কাজ দ্বারা কোনো অর্থ উপার্জিত হয় না, সেসব কাজকে অ-অর্থনৈতিক কাজ বলা হয়।
শ্রমিকের কলকারখানায় কাজ করা, কৃষকের জমি চাষ করা, শিক্ষকের শিক্ষা দান প্রভৃতি অর্থনৈতিক কাজের অন্তর্ভুক্ত। অপর দিকে পিতা–মাতার সন্তান লালন–পালন, শখের বশে বাগান করা, খেলাধুলা করা ইত্যাদি অর্থনৈতিক কাজের উদাহরণ।
গ. রবিনের দেখা সম্পদটি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ৩০। উৎপাদনরত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে তিতাস, বেলাবো, হবিগঞ্জ, কৈলাসটিলা, সিলেট, ফেনী, শাহবাজপুর প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
উদ্দীপকে রবিন তাঁর বাবার সঙ্গে রশিদপুর এলাকায় রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছিল। হঠাৎ ভিড় দেখে কাছে গিয়ে দেখলেন, একটি টিউবওয়েল দিয়ে পানি পড়ছে। একটি ছেলে ম্যাচের কাঠিতে আগুন ধরিয়ে টিউবওয়েলের কাছে ধরার সঙ্গে সঙ্গেই আগুন জ্বলে ওঠে, যা প্রাকৃতিক গ্যাসকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বহুমাত্রিক ব্যবহার লক্ষ করা যায়। এটি গৃহস্থালি ও কলকারখানার জ্বালানি হিসেবে বহুল ব্যবহৃত। আবার রাসায়নিক সার তৈরিতে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এ গ্যাসকে রূপান্তরিত করে যানবাহনের জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যা আমাদের বিদ্যুতের চাহিদার অনেকাংশ পূরণ করে থাকে। বলা যায়, সম্পদ হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম।
ঘ. প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাচুর্য যেকোনো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়ক। এ বক্তব্যের সমর্থনে নিচের যুক্তিগুলো দেখানো যায়—
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রথমত শিল্পায়ন প্রয়োজন। আর শিল্পায়নে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। বাংলাদেশে যেসব এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ রয়েছে, সেসব এলাকাকে কেন্দ্র করেই শিল্পায়ন ঘটেছে। উদ্দীপকে রবিন ও তাঁর বাবার দেখা সম্পদটি প্রাকৃতিক গ্যাস। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম উৎস্য হচ্ছে গ্যাস। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের সরবরাহই বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম।
তা ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি শক্তি তথা প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেল আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়ক। তাই প্রাকৃতিক গ্যাস একটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
শেখ আবু সাঈদ আবদুল্লাহ্, প্রভাষক
ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়, কুমিল্লা