পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার। তিনি গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি খুবই ভালো। আগের বছরগুলোতে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হতো, সেগুলোর পাশাপাশি আরও নতুন কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার কথা বারবার কেন্দ্রসচিবদের অবহিত করা হয়েছে। কখনো কখনো প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় কিছু ভুল হয়, সেগুলো যাতে আর না হয়, সে জন্যও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাঁরা এ ভুল করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ছয়টি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল। এ জন্য ওই বোর্ডের অধীন চারটি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। বাকি দুই বিষয় উচ্চতর গণিত ও জীববিদ্যার পরীক্ষা নতুন প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে নির্ধারিত সময়েই নেওয়া হয়। এ অপকর্মের নেতৃত্বে ছিলেন একজন কেন্দ্রসচিব, যিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

এইচএসসি পরীক্ষায় এ রকম ঘটনা এড়াতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তপন কুমার সরকার বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রামে যে ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে প্রশ্নপত্র বাছাইয়ের (সর্টিং) দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার (উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) গাফিলতি ছিল। এ জন্য এ বছর উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি উপস্থিতি ও তদারকিতে কাজটি হবে। আর জেলার ক্ষেত্রে ট্রেজারি কর্মকর্তা অথবা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজটি করবেন। কোনো প্রতিনিধি দেওয়া যাবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার হলে ঢুকতে হচ্ছে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা আগে

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হচ্ছে। তবে অনিবার্য কারণে দেরি হলে, সেই পরীক্ষার্থীকে হলে প্রবেশ করতে দিলে তাঁর রোল নম্বর, প্রবেশের সময়, বিলম্বের কারণ ইত্যাদি একটি রেজিস্টারে লিখে ওই দিনই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন দিতে হবে। আর কোন সেট প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে, তা পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে জানানোর সিদ্ধান্ত আছে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্রসচিব) ছাড়া অন্য কেউ মুঠোফোন বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও ছবি তোলা যায় না এমন একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।


এদিকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবমুক্ত ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার লক্ষ্যে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।