এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬। জীববিজ্ঞান— সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকবে ৭টি, উত্তর দেবে ৫টির

এআই/প্রথম আলো

জীববিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত উত্তর–প্রশ্ন

প্রশ্ন: মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা বর্ণান্ধ বেশি হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা বর্ণান্ধ বেশি হওয়ার কারণ—

১. বর্ণান্ধতার জিন X ক্রোমোজোমে অবস্থিত ও প্রচ্ছন্ন প্রকৃতির হওয়ায় মেয়েদের ক্ষেত্রে কেবল হোমোজাইগাস অবস্থায় (XcXc) বর্ণান্ধতা প্রকাশ পায়; কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে X ক্রোমোজোমে বর্ণান্ধতার জিন থাকলেই (XcY) বর্ণান্ধতা প্রকাশ পায়।

২. মেয়েদের ক্ষেত্রে দুটি X ক্রোমোজোমের একটিতে বর্ণান্ধতার জিন থাকলে (XcX) তা বর্ণান্ধতা প্রকাশ ঘটাতে পারে না ; ফলে মেয়েরা স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন হয়, কিন্তু বর্ণান্ধতার জিন বহন করে। এ কারণে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা বর্ণান্ধ বেশি হয়।

প্রশ্ন: লিমুলাসকে কেন জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ভূগর্ভের শিলাস্তরে চাপা পড়ে থাকা জীবের সামগ্রিক বা আংশিক প্রস্তরীভূত দেহ বা দেহছাপকে ফসিল বা জীবাশ্ম বলে। বর্তমানের কোনো জীবিত জীবের বৈশিষ্ট্য অতীতের কোনো জীবাশ্ম জীবের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলসম্পন্ন হলে, তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। লিমুলাস সুদূর অতীতে উদ্ভূত হয়ে খুব বেশি পরিবর্তিত না হয়েও পৃথিবীর বুকে এখনো টিকে আছে। এ কারণে লিমুলাসকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

প্রশ্ন: প্রজাতির টিকে থাকার ক্ষেত্রে বিবর্তনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: বিবর্তনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভবকালে দেখা যায় অনেক প্রজাতি কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে যে প্রজাতিটির ক্ষমতা যত বেশি, সে বিবর্তনের আবর্তে তত বেশি দিন টিকে থাকতে পারে। অর্থাৎ পরিবেশ, জীবনপ্রবাহ ও জনমিতির মানদণ্ডে বিবর্তনে যে যত বেশি খাপ খাওয়াতে পারবে, সেই প্রজাতি টিকে থাকবে। বিবর্তনের পথে খাপ খাওয়ানোর এই প্রক্রিয়াকে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোজন বলা হয়।

প্রশ্ন: ব্যাঙ ও কীটপতঙ্গের মধ্যে সংগ্রাম ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ব্যাঙ ও কীটপতঙ্গের মধ্যে আন্তপ্রজাতিক সংগ্রাম পরিলক্ষিত হয়। জৈবিক কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের যে সংগ্রাম, তাকে আন্তপ্রজাতিক সংগ্রাম বলে। ব্যাঙ কীটপতঙ্গ খায়, অন্যদিকে সাপ ব্যাঙদের খায়। এভাবে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, যা আন্তপ্রজাতিক সংগ্রাম।

প্রশ্ন: ‘পাখির ফল খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ’—কোন ধরনের আন্তক্রিয়া? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ‘পাখির ফল খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ’—এটি ধনাত্মক আন্তক্রিয়া যা মিউচুয়ালিজমের অন্তর্ভুক্ত।

যে আন্তসম্পর্কে দুটি জীবের একটি অন্যটিকে সহায়তা করে, তাকে ধনাত্মক আন্তক্রিয়া বলে। পাখি ফল খেয়ে তার ক্ষুধা নিবারণ করে। পরবর্তী সময়ে পাখি দূরবর্তী কোনো স্থানে মলত্যাগের মাধ্যমে ফলের বীজও ত্যাগ করে। এভাবে বীজের স্থানান্তর ঘটে এবং উদ্ভিদেও বিস্তার সহজ হয়। বীজ নতুন উদ্ভিদ তৈরিতে সাহায্য করে। এখানে দুটি জীব একে অপরের সহযোগিতার মাধ্যমে পরস্পর পরস্পরের কাছ থেকে উপকৃত হয়। তাই এটি মিউচুয়ালিজমের অন্তর্ভুক্ত।

প্রশ্ন: মৃতজীবী খাদ্যশিকলকে কেন অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: জীবের মৃতদেহ থেকে শুরু হয়ে যদি কোনো খাদ্যশিকল একাধিক খাদ্যস্তরে বিন্যস্ত হয়, তবে সেরূপ শিকলকে মৃতজীবী খাদ্যশিকল বলা হয়।

এই খাদ্যশিকল অসম্পূর্ণ, কারণ এখানে কোনো উত্পাদক নেই। এ ধরনের শিকল বাস্তুতন্ত্রের যাবতীয় মিথস্ক্রিয়া বা আন্তসম্পর্কের অংশমাত্র তৈরি করে।

প্রশ্ন: ছত্রাককে বিয়োজক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: যেসব অণুজীব উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহকে মাটিতে পচিয়ে ফেলতে সাহায্য করে, তাদের বিয়োজক বলে।

ছত্রাক উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহকে মাটিতে পচিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। এ জন্য ছত্রাককে বিয়োজক বলা হয়।

প্রশ্ন: প্রজাতিগত বৈচিত্র্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে সাধারণত পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর মোট প্রজাতির সংখ্যাকে বোঝায়। পৃথকযোগ্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতি ভিন্নতর হয়। এক প্রজাতির সঙ্গে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নতাই প্রজাতিগত বৈচিত্র্য।

প্রশ্ন: পরাগায়নে দলমণ্ডলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: দলমণ্ডল ফুলের দ্বিতীয় স্তবক। দল বা পাপড়ি সাধারণত রঙিন হয়। এরা ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশগুলোকে রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। উজ্জ্বল ঝলমলে রঙের দলমণ্ডল পোকামাকড় ও পশুপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সাহায্য করে। অনেক সময় ফুলের পাপড়ি কোনো পোকামাকড়কে বসে মধু খেতে সাহায্য করে। এসব কার্যক্রম চলাকালে পরাগায়ন সংঘটিত হয়ে থাকে।

  • মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক
    সরকারি রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা