এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ : হুমায়ূন আহমেদের ১৯৭১ উপন্যাস থেকে প্রশ্ন আসবে
প্রিয় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী, বাংলা ১ম পত্রের সহপাঠ হলো ১৯৭১ উপন্যাসটি। বাংলা সাহিতে৵র জনপ্রিয় কথাসাহিতি৵ক হুমায়ূন আহমেদ এ উপন্যাসটি রচনা করেছেন। পরীক্ষায় এই ১৯৭১ উপন্যাস থেকেই প্রশ্ন আসবে। এই উপন্যাস থেকে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
বাংলা ১ম পত্র: বর্ণনামূলক প্রশ্ন
সহপাঠ–১৯৭১
প্রশ্ন
ক. বদিউদজ্জামান কাদের ভয়ে এবং কোথায় লুকিয়েছিল? তার অবস্থা সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
খ. ‘অপমানের চেয়ে মানুষ মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করে।’—আজিজ মাস্টারের উদাহরণ ব্যবহার করে বাক্যটির সত্যতা যাচাই করো।
উত্তর: ক
বদিউদজ্জামান মিলিটারিদের ভয়ে জঙ্গলা মাঠের ভেতরে একটি বড় গর্তে কোমরপানিতে লুকিয়েছিল। মিলিটারি আগমনের পর একেবারেই নিরুপদ্রব, শান্ত–সমাহিত নীলগঞ্জ গ্রামের চেহারা দ্রুতই পাল্টে যেতে লাগল। গ্রামের প্রায় সবাই কৃষিকাজ করলেও বদিউদজ্জামানের মধুবন বাজারে মনিহারি দোকান আছে। সে প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে দোকানদারি শেষে সন্ধ্যায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফেরে।
মিলিটারি দল আসতে দেখে পথিমধ্যে সে থমকে দাঁড়ায় আজ।
সে মধুবন বাজারে যাওয়ার জন্য রওনা দিলেও আবার ফেরার পথ ধরে। মিলিটারির কবল থেকে বাঁচতে সে জঙ্গলা মাঠের ভেতরে ঢুকে যায়। একটা বড় গর্তে কোমরপানিতে লুকিয়ে থাকে। কাশি এলে সে প্রাণপণে ঠেকিয়ে রাখতে চায়। শিয়াল দেখতে পায় এক জোড়া। পচা গন্ধ আসে পানি থেকে। তবু ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সে।
নীলগঞ্জ থেকে আসা গুলির শব্দও শুনতে পায়। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবেই সে পানির ভেতরে বসে থাকে।
উত্তর: খ
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ‘১৯৭১’ শীর্ষক উপন্যাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নীলগঞ্জ গ্রামের জনজীবন ও যুদ্ধকালীন বাস্তবতা তুলে ধরতে প্রয়াসী হয়েছেন। এ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র আজিজ মাস্টার। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের রকম–বহর অত্যন্ত লজ্জাজনক হওয়ায় একপর্যায়ে সে নিজেই অপমানের বিপরীতে নিজের মৃত্যুকে বেছে নেয়।
‘১৯৭১’ উপন্যাসে আজিজ মাস্টার নীলগঞ্জ গ্রামের কেউ নয়। মসজিদের ইমাম সাহেবের মতো সে–ও বাইরের লোক। থাকে জয়নাল মিয়ার বাড়িতে। মেজর এজাজ স্কুলের দপ্তরির মাধ্যমে মাস্টার সাহেবকে ডেকে পাঠায়।
সে মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য জানতে চায় কিন্তু আজিজ মাস্টার কোনো তথ্যই দিতে পারে না। মেজর এজাজ অবশ্য তার কোনো কথা বিশ্বাস করে না। একপর্যায়ে তাকে বন্দী করে নির্যাতন চালায়। কথায় কথায় মেজর এজাজ জানতে পারে যে জয়নাল মিয়ার মেয়ে মালাকে নিয়ে আজিজ মাস্টার কবিতা লেখে। এরপর সে শাস্তির ধরনে পরিবর্তন আনে। তার এ দেশি সহচর রফিককে বলে, সে যেন আজিজ মাস্টারকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে এবং তার পুরুষাঙ্গে একটা একটা ইটের টুকরা বেঁধে গ্রামে ঘুরিয়ে আনে। মেজর এজাজের এ সিদ্ধান্ত আজিজ মাস্টার মন থেকে মানতে না পারলেও সে ছিল নিরুপায়। জীবন বাঁচানোর দায়ে সে নিজেই নিজের পরনের প্যান্ট খুলে ফেলে। এর আগেই মেজর এজাজ চিত্রা বুড়ির ছেলেকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইসহ মনা কৈবর্তকে গুলি করে হত্যা করে। সেই ভয়ংকর দৃশ্য সামনে থেকে দেখতে হয় আজিজ মাস্টারকে। সময় যতই গড়ায় মেজর এজাজের শাস্তি দেওয়ার নতুন নতুন পদ্ধতি বের হতে থাকে।
এবার সে জয়নাল মিয়াকে ধরে এনে তার সামনে মাস্টার সাহেবকে উলঙ্গ অবস্থায় হাজির করে এবং আজিজ মাস্টার যে তার মেয়েকে ভালোবাসে, তা জানিয়ে দেয়।
রফিককে আবার নির্দেশ দেয়, সে যেন আজিজ মাস্টারকে উলঙ্গ অবস্থায় জয়নাল মিয়ার মেয়ে মালার সামনে নিয়ে ঘুরিয়ে আনে। এমতাবস্থায় আজিজ মাস্টারের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় অর্থাৎ যখন একের পর এক শাস্তির ধরন পরিবর্তিত হতে লাগল এবং তা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেল, তখন আজিজ মাস্টার অপমানের তুলনায় মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করে তা মেনে নিতে প্রস্তুত হয়। তার এ আচরণে প্রমাণিত হয়েছে যে ‘অপমানের চেয়ে মানুষ মৃত্যুকেই শ্রেয় মনে করে।’
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা