এইচএসসি ২০২৬। সমাজকর্ম ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন (অধ্যায়–১)—শিল্পবিপ্লবের ফলে সামাজিক সমস্যা দূর হয়েছে
সমাজকর্ম ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন
অধ্যায়–১
# নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
দিপার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা মাত্র শেষ হয়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যে স্নাতক শ্রেণির ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে তাকে। তার জন্য যথাযথ প্রস্তুতিও চলছে। অবশেষে এমন একটি বিষয়ে তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হয়, যেটির জন্ম হয়েছে আধুনিক জটিল শিল্পসমাজের বহুমুখী সমস্যাগুলো সার্থকভাবে মোকাবিলা করার জন্য। বাস্তবতা ও যুগের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য বিষয়টির কতগুলো সুনির্দিষ্ট নিজস্ব পদ্ধতি, নীতিমালা ও মূল্যবোধও গড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন
ক. সমাজকর্ম কোন ধরনের বিজ্ঞান?
খ. সমাজকর্ম একটি সক্ষমকারী প্রক্রিয়া বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে দিপা যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে, তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।
ঘ. বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক. সমাজকর্ম হলো সামাজিক বিজ্ঞান।
খ. ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সহায়তার মাধ্যমে তাদের সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলে বলে সমাজকর্মকে সক্ষমকারী প্রক্রিয়া বলা হয়।
সমাজকর্ম বর্তমান বিশ্বে একটি মানবসেবামূলক সাহায্যকারী পেশা হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। এটি ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে এমনভাবে সহায়তা করে, যেন তারা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়।
গ. উদ্দীপকে দিপা সমাজকর্ম বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে।
শিল্পবিপ্লব–উত্তর আধুনিক সমাজের আর্থসামাজিক সমস্যা সমাধানের সুসংগঠিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে। সমাজে বসবাসরত অসহায় দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে সমাজকর্ম সহায়তা করে। যে কারণে একে একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শিল্পবিপ্লব–পরবর্তী জটিল সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলা, পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান ও মানুষের সুপ্ত ক্ষমতা বিকাশ সাধনের উদ্দেশ্যে সক্ষমকারী প্রক্রিয়া হিসেবে সমাজকর্মের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে সম্পদের অপচয় রোধ ও সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। উদ্দীপকে দিপা যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে, সেটি সুনির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি, নীতিমালা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে, যা সমাজকর্মের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। দিপা সমাজকর্মে উচ্চশিক্ষা অর্জন করছে। আর ওপরে আলোচিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সমাজকর্ম কাজ করে।
ঘ. বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা বিষয় অর্থাৎ সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সেবাকর্ম হিসেবে সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, নীতিমালা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করে। বিশেষত বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। উদ্দীপকের দিপা এমন একটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে, যা আধুনিক জটিল শিল্পসমাজের বহুমুখী সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, নীতিমালা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাধান করে থাকে।
বাংলাদেশের অস্থিতিশীল আর্থসামাজিক পরিস্থিতি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। যে কারণে দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, জনসংখ্যাস্ফীতি, বেকারত্ব, অপরাধপ্রবণতা, সন্ত্রাস ইত্যাদির মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিনিয়ত দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, প্রয়োজন ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজকর্মের সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ করা যায়। একই সঙ্গে সমাজকর্মে নিজস্ব সম্পদ ও সামর্থ্যের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থসামাজিক স্বনির্ভরতা অর্জনকে উৎসাহিত করা হয়। তাই বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে সমাজকর্মের নীতি, পদ্ধতি ও কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মাহমুদ বিন আমিন, প্রভাষক
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা