পাবলিক পরীক্ষা, শিক্ষক নিয়োগ বা যেকোনো নিয়োগ পরীক্ষায় নকল হলে শাস্তি: কুমিল্লায় শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পাবলিক পরীক্ষা, চাকরি, শিক্ষক নিয়োগ বা যেকোনো নিয়োগের পরীক্ষায় নকল হলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। গতকাল শনিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা–২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এ বছর পরীক্ষায় যেসব বিদ্যালয়ের পাসের হার শূন্য হবে, গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে তাদের এমপিও বাতিল করা হবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি রাখতে হবে। এ সিসিটিভি স্থায়ী থাকবে, যাতে ক্লাসের লেখাপড়া মনিটর করা যায়। কোচিং সেন্টার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ ‘ইন হাউস’ কোচিং চালু করার মাধ্যমে। এই ইন হাউস কোচিং এ যে ছাত্র যে বিষয়ে দুর্বল, সেই বিষয়ে পাঠদান করা হবে।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামসুল ইসলাম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা শুধু একটি প্রশাসনিক খাত নয়, এটি জাতি গঠনের মূল ভিত্তি এবং একটি পবিত্র দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়ার যে ভিশন গ্রহণ করা হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষা। এই লক্ষ্য অর্জনে নকলমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।

শিক্ষামন্ত্রী অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ২০০১-০৬ মেয়াদে নকলবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে শিক্ষার গুণগত মান দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময় বিভিন্ন কারণে সেই ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা আবার সেই সঠিক পথে ফিরতে চাই, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রশাসন সম্মিলিতভাবে একটি সৎ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবে।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমকে ‘সাদকায়ে জারিয়া’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন—একজন শিক্ষক যখন একজন শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন, তখন তা শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং একটি স্থায়ী সওয়াবের কাজ। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তিনি ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

সভায় নকল প্রতিরোধে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন আধুনিকায়নের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে, যাতে ডিজিটাল মাধ্যমে নকলসহ সব ধরনের অসদুপায় প্রতিরোধ করা যায়। নতুন প্রস্তাবনায় কেন্দ্রসচিব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে পরীক্ষা–পরবর্তী খাতা মূল্যায়নেও র‍্যান্ডম চেকিং চালু করা হবে।

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

এ ছাড়া সভায় কুমিল্লা–৫ আসনের জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) মো. জসীম উদ্দিন, কুমিল্লা–১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, কুমিল্লা–৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা–৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রসচিবরা উপস্থিত ছিলেন এবং নকল প্রতিরোধসহ শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নে তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্য ও শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নকল প্রতিরোধ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।