প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ফলে উত্তীর্ণ ৬৯২৬৫, প্রার্থীদের ৬ শর্ত, জেলাভিত্তিক ফল দেখুন

শিক্ষকতাপ্রথম আলো ফাইল ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (https://dpe.gov.bd) তে এই ফলাফল প্রকাশ করেছে। প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জেলা ভিত্তিক ফল.pdf

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৬১ জেলায় (পার্বত্য ৩ জেলা ব্যতীত) ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একযোগে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৬টি শর্তে সর্বমোট ৬৯ হাজার ২৬৫ (উনসত্তর হাজার দুই শত পঁয়ষট্টি) জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

১. এ ফলাফল সাময়িক ফলাফল হিসেবে গণ্য হবে। এ ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীরা কেবল মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ফলাফল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্বখাতভুকৃত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’- এর কোনো শূন্য পদে নিয়োগের জন্য কোনো নিশ্চয়তা প্রদান করে না।

২. প্রকাশিত ফলাফলের যে কোনো পর্যায়ে কোনো প্রকার ভুল-ভ্রান্তি/ত্রুটি-বিচ্যুতি/মুদ্রণজনিত ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধন করার বা প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট ফলাফল বাতিল করার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।

আরও পড়ুন

৩. কোনো প্রার্থী ইচ্ছাকৃত কোনো ভুল তথ্য প্রদান করলে কিংবা কোনো তথ্য গোপন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান/প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ তার ফলাফল বা নির্বাচন বাতিল করতে পারবে।

৪. প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুসরণপূর্বক নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।

৫. মৌখিক পরীক্ষার স্থান, তারিখ ও সময় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হবে।

৬. মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর ক্রমানুসারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় (https://mopme.gov.bd) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (https://dpe.gov.bd)-এ পাওয়া যাবে।

*ফলাফল দেখুন এখানে

আরও পড়ুন

এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় মোট আবেদনকারীর মধ্যে ৭৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন।

উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা খুব শিগগির বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

কম সময়ে ফলাফল প্রকাশিত হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও পরীক্ষাটি ঘিরে শুরু থেকেই নানামুখী বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বাইরে চলে আসা এবং ‘কেন্দ্র কন্ট্র্যাক্টে’র অভিযোগ তুলেছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। জালিয়াতি ও ডিজিটাল নকলের প্রতিবাদে এবং স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে অধিদপ্তরের সামনে বিক্ষোভও করেছিলেন পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা  অভিযোগের তদন্ত করে।  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থা আথ্হাপিত অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পাদন করেছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। কোনো প্রকার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি।’

আরও পড়ুন