এসএসসি ২০২৬। বাংলা ১ম পত্রের সৃজনশীল প্রশ্ন।। গদ্য: প্রত্যুপকার—বাংলা গদ্যের জনক হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন
গদ৵: প্রত্যুপকার
‘কৃতজ্ঞতা হলো সৌজন্যের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট রূপ’ বলেছেন ফরাসি দার্শনিক জাক মারিত্যাঁ। প্রাচীন রোমের দার্শনিক সিসেরোর বিবেচনায় কৃতজ্ঞতাবোধ কেবল একটি শ্রেষ্ঠ গুণই নয়, অন্য সব গুণেরও জনক। সত্যিই কৃতজ্ঞতাবোধের চেয়ে সুন্দরতম বোধ ও মনুষ্য বৈশিষ্ট্য আর হয় না। কৃতজ্ঞ মানুষ সবচেয়ে সুন্দর।
প্রশ্ন
ক. কাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়?
খ. ‘তিনি প্রাণদণ্ড হতে অব্যাহতি পেলেন।’—কোন প্রসঙ্গে প্রশ্নের মন্তব্যটি করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত কৃতজ্ঞতাবোধ কি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যেও ছিল? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নয়।— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
খ. খলিফা মামুনের বন্দিদশা থেকে আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষাকারী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গেই প্রশ্নের মন্তব্যটি করা হয়েছে। আলী ইবনে আব্বাস তাঁর প্রাণ রক্ষাকারী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির পরোপকার, মহানুভবতা ও নির্দোষের বিষয় খলিফা মামুনকে বিস্তারিত বলেছিলেন। সব শুনে খলিফা মামুন নিজের ভুল বুঝতে পারলেন এবং ওই ব্যক্তিকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দিলেন। শুধু তা–ই নয়, খলিফা মামুন ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে মূল্যবান পুরস্কার ও অনেক অর্থও দিলেন। এভাবে ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত কৃতজ্ঞতাবোধ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যে ছিল বলে আমি মনে করি। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস একজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী ব্যক্তি। একদিন যে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি তাঁকে আশ্রয় দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছিলেন, আব্বাস সেই ব্যক্তিকে খলিফা মামুনের প্রাণদণ্ড থেকে রক্ষা করেন। এ ক্ষেত্রে আলী ইবনে আব্বাস উপকারী ব্যক্তির উপকার মনে রেখেছিলেন। সুযোগ পেয়েই সেই উপকারীর উপকার করার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। উদ্দীপকে কৃতজ্ঞতা সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যক্তির উক্তি তুলে ধরা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কৃতজ্ঞতাবোধের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কৃতজ্ঞতাবোধের চেয়ে সুন্দরতম মানবিক বৈশিষ্ট্য আর হয় না। কৃতজ্ঞতা হলো সৌজন্যের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট রূপ। কৃতজ্ঞতা মানুষের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলে। এটি একজন মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যে উদ্দীপকে বর্ণিত এই গুণটি লক্ষণীয়। তাই এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে আলী ইবনে আব্বাসের মধ্যে অবশ্যই উদ্দীপকে বর্ণিত কৃতজ্ঞতাবোধ ছিল।
ঘ. উদ্দীপকে পরোপকার ও প্রত্যুপকারের স্পষ্ট কোনো দৃষ্টান্ত না থাকায় উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নয়। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে একজন মানুষের নিঃস্বার্থ পরোপকার ও আরেকজন মানুষের প্রত্যুপকারের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। গল্পে একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি একদিন আলী ইবনে আব্বাসকে আশ্রয়দানের মাধ্যমে তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। এখানে কৃতজ্ঞতার দিকটি প্রকাশিত হলেও পরোপকার ও প্রত্যুপকারের বিষয়টিই মুখ্য।
এখানে ফরাসি দার্শনিক জাক মারিত্যাঁ ও দার্শনিক সিসেরোর কৃতজ্ঞতাবোধ–সম্পর্কিত ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। কৃতজ্ঞতাবোধ হলো সুন্দরতম মানবিক বৈশিষ্ট্য। কৃতজ্ঞ মানুষ হলেন সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তি। কৃতজ্ঞতার মাধ্যমেই মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
‘প্রত্যুপকার’ গল্পের পরোপকারের দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকটি শুধু কৃতজ্ঞতাবোধের স্বরূপ উপস্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।। ফলে উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কৃতজ্ঞতাবোধের দিকটি প্রতিফলিত হলেও এটি আলোচ্য গল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নয়।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা