এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলা ২য় পত্র: মনে রেখো, অনুচ্ছেদ লেখায় নম্বর বরাদ্দ ১০
বাংলা ২য় পত্র: অনুচ্ছেদ লিখন
∎ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
বিশ্বজুড়ে ভাষার বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি এই দিবস পালন করা হয়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন থেকে ছাত্রছাত্রীরা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করেন। মিছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনের নির্দেশে পুলিশ নির্বিচার গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে নিহত হন। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই আত্মত্যাগের ঘটনা তখন থেকেই সারা দেশে ভাষা আন্দোলন দিবস হিসেবে পালিত হয়। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিশ্বে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালিরাই প্রথম জীবন দেয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর এক ঘোষণার মাধ্যমে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেসকো। ফলে ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বাঙালির ভাষা আন্দোলন সারা পৃথিবীতে একটা স্বীকৃতি লাভ করে। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়। বাংলাদেশের একটি জাতীয় দিবস ‘শহীদ দিবস’ এভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নামে সারা বিশ্বের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
∎ বইমেলা
বইমেলা হচ্ছে বইয়ের মেলা। এই মেলায় বইয়ের প্রকাশকেরা তাঁদের নতুন ও পুরোনো বই নিয়ে দোকান সাজান। পাঠক সেখান থেকে তাঁর পছন্দমতো বই কিনতে পারেন। এটাই বইমেলার সবচেয়ে বড় সুবিধা। বইমেলা হলো লেখক ও পাঠকদের মধ্যে অপূর্ব এক মিলনমেলা। যেখানে বইপ্রেমী মানুষেরা তাঁদের প্রিয় লেখক ও পাঠকদের সঙ্গে একত্র হওয়ার ও সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান। এটি পাঠকদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করে। বিশ্বে সবচেয়ে বড় বইমেলা হয় জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় বইমেলা হলো ‘অমর একুশে বইমেলা’, যা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তধারা প্রকাশনীর মালিক চিত্তরঞ্জন সাহার উদ্যোগে বাংলাদেশে বইমেলার সূচনা ১৯৭২ সালে। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা একাডেমি ১৯৭৮ সালে বইমেলার আয়োজন শুরু করে। বইমেলার প্রধান আকর্ষণ হলো নানা ধরনের বইয়ের সমাহার। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন, শিশুসাহিত্যসহ সব বিষয়ের বই এখানে পাওয়া যায়। লেখকেরা বইমেলায় উপস্থিত থেকে পাঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, বইয়ে অটোগ্রাফ দেন, যা পাঠকদের জন্য আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। বই হলো মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম। অমর একুশে বইমেলা ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকে উদ্ভূত হওয়ায় এর গুরুত্ব বাঙালির জন্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। এটি জাতীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক।