কর্মশালায় সচিব বলেন, ‘আমরা একটা কঠিন সময়ের মধ্যে আছি। আজ শুদ্ধাচার নিয়ে কথা বলছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে। পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। দুর্ভাগ্য, আমাদের শিক্ষকদের গ্রেপ্তার না করে পারিনি। এ লজ্জা নিয়ে আমরা আজ এখানে কর্মশালা করছি। তিন শিক্ষক জেলে, একজন পলাতক। আমি কার ওপর বিশ্বাস করব? প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়ার দায়িত্ব যাঁর ওপর দিলাম, শুনলাম, তিনি বেশভূষায় ইসলামিক মানুষ। কোথায় বিশ্বাস করব? ছাত্ররা কী শিখবে? শিক্ষকদের তো আমরা শাসন করতে পারি না। আমাদের একটা জাগরণ দরকার, রেনেসাঁ দরকার।’

আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, ‘সুশাসনের জন্য কথা বলছি। ফকির লালন বহুদিন আগে বলে গেছেন—“সত্য কাজে কেউ নয় রাজি”। এটাই আমাদের সমস্যা। শুদ্ধাচার হলো গুড গভর্ন্যান্সের একটি টুল। আমরা যদি সুশাসন নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে নিজেদের আচরণ শুদ্ধ হতে হবে। নিজেদের বিশুদ্ধ হতে হবে। এর বাইরে শুদ্ধাচারের কিছু নেই।’

শিক্ষক ও অংশীজনদের উদ্দেশে সচিব বলেন, ‘যদি বিশুদ্ধ শিক্ষা না দিতে পারি, নিজেদের মনকে বিশুদ্ধ না করতে পারি, তাহলে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া যাবে না। আমাদের ভালো শিক্ষাক্রম নেই, যা আছে তা শিক্ষাক্রমের মধ্যে পড়ে না। তৃতীয়ত, আমাদের দরকার ভালো মূল্যায়নব্যবস্থা।’

কতজন শিক্ষকের কোয়ালিটি আছে, এমন প্রশ্ন রেখে সচিব বলেন, সেসিপে (সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম) যে গবেষণা কর্মকর্তারা আছেন, তাঁদের কি গবেষণা কোয়ালিটি আছে? গবেষণা রিসার্চ কী জিনিস জানেন? তাহলে তাঁরা কী গবেষণা করবেন?

আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, ‘আমরা এখন কোয়ালিটি ফ্রেমওয়ার্ক করছি। কিন্তু বাঁশি যে বাজাবে, তাকে বাঁশি বাজানো শেখাচ্ছি না। তাকে শেখাচ্ছি বাঁশি লম্বা কতটুকু, বাঁশির ছিদ্র কয়টা, বাঁশি দেখতে কেমন—এসব শেখাচ্ছি। বাঁশি বাজানো চর্চা ছাড়া কেউ শিখতে পারে না। এটা কিন্তু করাচ্ছি না।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতির একটি ভয়ংকর চক্র সারা দেশে। সবচেয়ে ভয়ংকর কথা হলো আমরা যারা শুদ্ধাচারের কথা বলি, তারাই ভয়ংকর অসৎ। ঘুষ যাতে না খায়, সে জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আমরা গৎবাঁধা কথা বলে গেছি। একটু পরিবর্তন হলে এগোতে বেশি দিন লাগবে না। আমরা অনেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে বেশি আওয়ামী লীগার হয়ে গেছি। ভাই, আপনার এত আওয়ামী লীগার হওয়া দরকার কী? আপনি আপনার কাজ সুষ্ঠুভাবে করেন। আমরা মুখে বলি, কিন্তু নিজে বিশ্বাস করি না। আমি বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালে অনেক চেষ্টা করেছি, ২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেছি। জায়গা নেই, জমি নেই, ২৭টি প্রতিষ্ঠান আমি বন্ধ করে এসেছি। আরও আছে। বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে।’

অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. বেলায়েত হোসেন তালুকদারও উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন