শাহীন বলছিলেন, ‘আমাদের এখনকার প্রজন্ম তো রক গানই বেশি পছন্দ করে। সেই অবস্থা থেকে ক্যাম্পাসে লোকগানের ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করার কাজটা সহজ ছিল না। লোকগানকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে, এমন সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা লোকসংগীত চর্চার একটি জায়গা তৈরি করতে পেরেছি।’

শাহীন ব্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন আর লিড ভোকালের দায়িত্বে তিনি নেই। এখন ভবতরীর ভোকাল লিড করেন ইংরেজি বিভাগেরই আরেক শিক্ষার্থী আনিছ সিদ্দিক। আনিছের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বললেন, ‘এটা ঠিক, রক গানের প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ বেশি। কিন্তু লোকগানের প্রতিও দুর্বলতা আছে। হাজার হলেও এই গানই তো আমাদের শিকড়। শিকড়ের একটা টান থাকেই। করোনার কারণে দীর্ঘ একটি বিরতি পড়লেও গত মার্চ মাসেই আমরা নয়টি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছি। ক্যাম্পাসে লোকগানের কথা বললে ভবতরীর নাম সবার আগে আসে। এটিই আমাদের প্রাপ্তি।’

বর্তমানে ব্যান্ডে ১০ জন সদস্য নিয়মিত পারফর্ম করছেন। ঢোল, বাঁশি, কাহন, একতারা, দোতারা, ইউকুলেলে, গিটারের মতো অনুষঙ্গ তাঁদের গানগুলোকে করেছে আরও শ্রুতিমধুর। আনিছ বলছিলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসের বাইরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান শোনানোর জন্য ডাক পাই। কিছু পারিশ্রমিকও আসে। সেই পারিশ্রমিক দিয়ে আমরা বাদ্যযন্ত্র কেনাসহ প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারি।’

ব্যান্ড নিয়ে ভাবনার কথা বলছিলেন ভবতরীর প্রতিষ্ঠাতা শাহীন বাউলা, ‘জীবিকার তাগিদে আমাকে ক্যাম্পাস ছেড়ে আসতে হয়েছে। কিন্তু ভবতরী টিকে আছে। এখনো বিশ্বাস করি, ভবতরী আমাদের পরিচয়। ক্যাম্পাস যত দিন আছে, তত দিন ভবতরী টিকে থাকবে লোকগানপ্রিয় শিক্ষার্থীদের হাত ধরে—এটাই প্রত্যাশা।’

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন