বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সভা সূত্র জানায়, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান আসিফ নজরুলের সভাপতিত্বে একাডেমিক কমিটির ওই সভা হয়৷ সভার শেষ দিকে অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে বলেন, রহমত উল্লাহকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি আইনসংগত হয়নি৷ এ ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আইন বিভাগের একাডেমিক কমিটি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো চিঠি দেওয়া বা জানতে চাওয়া যায় কি না, তা জানতে চান তিনি৷ এই প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানান অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)৷ তিনি বলেন, সভার আলোচ্যসূচিতে না থাকায় এ বিষয়ে এ সভায় কোনো আলোচনা হতে পারে না৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ফোরাম সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ বিষয়ে বিভাগের একাডেমিক কমিটিতে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই৷ এ ছাড়া সিন্ডিকেট আইন বিভাগের একাডেমিক কমিটির কাছে এ বিষয়ে কোনো আইনি মতামত চায়নি৷

সভা সূত্র আরও জানায়, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানের বক্তব্যের পর বিভাগের চেয়ারম্যান আসিফ নজরুল, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান ও সহযোগী অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল রহমত উল্লাহর পক্ষে কিছু যুক্তি তুলে ধরেন৷ সভার একপর্যায়ে অধ্যাপক এস এম হাসান তালুকদার বক্তব্য দেন৷ খন্দকার মোশতাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তিনি রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের দাবি জানান৷ শেখ হাফিজুর রহমান তাঁকে সমর্থন করেন৷ পরে অবশ্য কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই একাডেমিক কমিটির সভাটি শেষ হয়৷

জানতে চাইলে অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে একাডেমিক কমিটিতে এসব আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন৷ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার খুনি খন্দকার মোশতাককে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে রহমত উল্লাহ গর্হিত অপরাধ করেছেন৷ আমার দাবি, রহমত উল্লাহকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হোক৷’

আইন বিভাগের চেয়ারম্যান আসিফ নজরুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘একাডেমিক কমিটির সভায় অধ্যাপক রহমত উল্লাহর বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি৷ সভা শেষে শিক্ষকদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে৷ অনানুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের আলোচনা হতেই পারে৷’

এ বিষয়ে শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, একাডেমিক কমিটির সদস্যদের সবার উপস্থিতিতেই আলোচনাগুলো হয়েছে৷ তবে এসব আলোচনা শুরু হওয়ার আগে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল কি না, তা তাঁর মনে নেই৷

১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. রহমত উল্লাহ মুজিবনগর সরকারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান বলে অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ সেখানেই তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান৷ পরে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান রহমত উল্লাহর বক্তব্যের ওই অংশ প্রত্যাহার করেন।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর নিজেকে দেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন খন্দকার মোশতাক। খন্দকার মোশতাককে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই মোশতাককে রহমত উল্লাহর ‘শ্রদ্ধা জানানোর’ প্রতিবাদে সরব হয় ছাত্রলীগ। এমন প্রেক্ষাপটে পরদিন সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে ‘ভুল করে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা’ করেন রহমত উল্লাহ। তবে ওই দিনই রহমত উল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাঁর বিষয়ে ‘যথোপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়ার দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ৷ উপাচার্য ছাত্রলীগের দাবি ও বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা জানান৷ এরপর ২০ এপ্রিল জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে রহমত উল্লাহকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ।

মো. রহমত উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত৷ নীল দলের প্যানেল থেকে তিনি শিক্ষক সমিতির সভাপতির পাশাপাশি আইন অনুষদের ডিনও নির্বাচিত হয়েছেন৷ এ ছাড়া বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রহমত উল্লাহ৷

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন