শিক্ষার্থীদের আজীবন ক্যারিয়ার সেবা যেভাবে দেয় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

যুক্তরাজ্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন তাদের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য আজীবন ক্যারিয়ার পরামর্শ সেবা চালু করেছে। এর মাধ্যমে চাকরি পরিবর্তন, নতুন দক্ষতা অর্জন ও সাক্ষাৎকার প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলোয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ৪০ ও ৫০ বছর বয়সীরা, যাঁরা দীর্ঘদিন একই চাকরিতে ছিলেন বা কর্মজীবনে নতুন কিছুর সুযোগ খুঁজছেন, তাঁরা এই সেবার দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

চাকরি পরিবর্তনের ভীতি ও প্রথম পদক্ষেপ

ল্যাঙ্কেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী গিল হ্যামিলটন ১৭ বছর ধরে একই চাকরি করছেন। তিনি চাকরি পরিবর্তন নিয়ে ভীত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ১৮ বছর ধরে নতুন কোনো চাকরির জন্য আবেদন করিনি, সিভি বা কাভার লেটার তৈরি করাও মনে পড়ছিল না। কিন্তু এক বন্ধুর পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করলাম।’

গিল হ্যামিলটনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার কোচ র‍্যাচেল বোচাম্পে সাহায্য করেন। তিনি তাঁর সিভি পর্যালোচনা করেন, বর্তমান চাকরির বাজারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপায় বোঝান এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করেন। হ্যামিলটন সাফল্যের সঙ্গে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

পরিবর্তনের পটভূমি

র‍্যাচেল বোচাম্পে বলেন, ‘অনেক প্রাপ্তবয়স্ক গ্র্যাজুয়েট যাঁরা দীর্ঘদিন চাকরির ফরমাল রুট ব্যবহার করেননি, তাঁরা বিশ্বস্ত উৎস থেকে পরামর্শ চাচ্ছেন। কিছু মানুষ আবার কর্মজীবনে ফিরে আসার সময় পুনঃপ্রশিক্ষণ বা নতুন কিছু শেখার দিকে ঝুঁকছেন।’

অ্যাসোসিয়েশন অব গ্র্যাজুয়েট ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজারি সার্ভিসেসের পলিসি হেড জেরেমি সোয়ান বলেন, ‘অনেক গ্র্যাজুয়েট জানে না যে আজীবন ক্যারিয়ার সেবা এখন দ্রুতই সাধারণ হয়ে উঠছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৪০ শতাংশের বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এই সেবা দিচ্ছে।’

হ্যামিলটন আরও বলেন, ‘৪০–এর পর মানুষ সাধারণত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে একই চাকরিতে থাকেন। কিন্তু যাঁরা অসন্তুষ্ট, তাঁদের জন্য সহজেই সাহায্য পাওয়া সম্ভব এবং এটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। তাই নতুন কিছু চেষ্টা করতে ভয় পাওয়ার দরকার নেই।’

আরও পড়ুন