প্রাথমিকে সাংস্কৃতিক শিক্ষা বিতর্কের বিষয় নয়, শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম: প্রতিমন্ত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত বিভাগ আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ২৫ জুনছবি: মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ কোনো বিতর্কের বিষয় নয়, বরং এটি শিশুদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, আত্মপ্রকাশ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি বলেন, সংগীত, সাহিত্য, আবৃত্তি, নাটক, চিত্রকলা কিংবা কিরাত সবই শিশুদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি করে। কোনো শিক্ষার্থী কোন মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করবে, সেটি তার ও তার পরিবারের পছন্দের বিষয়।

আজ বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত বিভাগ আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রমে সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ শিক্ষার আওতায় শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি, কিরাত, বক্তৃতা, সংগীত, নৃত্য, নাটক ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের স্বার্থে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে ববি হাজ্জাজ ঘোষণা দেন, সংগীত, চারুকলা, নাট্যকলাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্পসংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ প্রয়োজন। তাঁরা চান সংগীত, নাটক ও চারুকলার শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে ভূমিকা রাখুক।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, বাঙালির চিন্তাচেতনা, মনন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তাঁরা নিজ নিজ কর্ম ও সৃষ্টির মাধ্যমে স্বতন্ত্র উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। বাঙালির জীবনচলার পথে এই দুই মহাকবি সমানভাবে অনুপ্রেরণা ও চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন বলেন, বাংলা সাহিত্যের দুই মহান দিকপালকে কেন্দ্র করে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ উৎসব সত্যিই প্রশংসনীয় ও মনোমুগ্ধকর। তিনি বলেন, নজরুল ছিলেন সাম্যবাদী, মানবতাবাদী এবং সময়সচেতন কবি। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন শুধু তাঁর সময়েই নয়, বর্তমান সমাজেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি তরুণদের নিজস্ব জাতিসত্তা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির শিকড় অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব শেষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলী এফ এম রেজোয়ান এবং সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে দেশের প্রখ্যাত নজরুলসংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরা, ইয়াকুব আলী খান, ইয়াসমীন মুশতারী ও টিটু মুন্সি সংগীত পরিবেশন করেন।

এ ছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির নৃত্যকলা বিভাগ কাজী নজরুল ইসলামের ‘লেটো পালা’ পরিবেশন করে। পাশাপাশি ধৃতি নর্তনালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনাও অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র-নজরুল উৎসবের সমাপনী আয়োজন ছিল আজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান অণিমা রায়।