শিক্ষকতা সাধারণ চাকরি নয়, এটি আজীবন দায়িত্ব: শিক্ষা উপদেষ্টা
শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) বলেন, শিক্ষকতা কোনো সাধারণ চাকরি নয়, এটি একটি আজীবন দায়িত্ব। শিক্ষকেরা সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানস, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণ করেন। তাই শিক্ষকতার সম্মান আপনা–আপনি পাওয়া যায় না, এটি অর্জন করতে হয় নিজের আচরণ, পেশাদারি, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ২০৬তম বনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষকতার সম্মান প্রতিনিয়ত রক্ষা ও নবায়ন করতে হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, শ্রেণিকক্ষের বাইরের ব্যবহার—সবকিছু মিলিয়েই একজন শিক্ষকের মর্যাদা গড়ে ওঠে। দলীয় রাজনীতি বা ব্যক্তিগত স্বার্থে জড়িয়ে পেশাগত আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন না করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।
বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান, আধুনিক ও কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের বোঝার সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, একজন শিক্ষককে এমনভাবে পাঠদান করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা তাঁর জ্ঞান ও দক্ষতার প্রতি আস্থা রাখতে পারেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, তা যত সাধারণ বা অপ্রত্যাশিতই হোক, সাবলীল ও সম্মানজনকভাবে গ্রহণ ও উত্তর দেওয়া শিক্ষকের দায়িত্ব।
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মানবিক যোগাযোগ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। করিডরে দেখা হলে খোঁজখবর নেওয়া, কোনো শিক্ষার্থী মানসিক চাপে থাকলে সহানুভূতির সঙ্গে কথা বলা—এই ছোট ছোট আচরণই একজন শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ভালোবাসা তৈরি করে।
দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শিক্ষাদানের লক্ষ্য কেবল মেধাবীদের এগিয়ে নেওয়া নয়; বরং যারা পিছিয়ে আছে, তাদের শেখার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করে সামনে নিয়ে আসাই একজন শিক্ষকের প্রকৃত সাফল্য।
বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পটভূমিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও সংবেদনশীল ও সম্মানজনক আচরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সম্মান কেবল পদ বা জ্যেষ্ঠতার বিষয় নয়, প্রত্যেক মানুষই সম্মানের দাবিদার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী—সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণই একটি সুস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তি।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা তরুণ প্রজন্ম লালন করছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষকেরাই হচ্ছেন ভবিষ্যৎ নির্মাতাদের নির্মাতা। এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মধ্য দিয়েই একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে উঠবে।
নায়েমের মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্বে থাকা শাহ্ মো. আমির আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণ–সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।