default-image

স্যাটেলাইট-নির্ভর জিপিএসের কাজ হলো মানচিত্রে অবস্থান দেখানো। তবে এই প্রযুক্তিতে একদম সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব না, জিপিএসযুক্ত যন্ত্রটি ‘পশ্চিমের ঘরের পড়ার টেবিলের ওপর আছে’ কিংবা ‘গাড়িটি সদর দরজার ২৫ মিটার উত্তরে পার্ক করা রয়েছে’। আলট্রা ওয়াইডব্যান্ডের সে সীমাবদ্ধতা নেই। তারহীন যোগাযোগের এই প্রযুক্তিতে বলে দেওয়া সম্ভব ‘সোফার পেছনে লুকিয়ে আছে স্মার্টফোন’। তুলনামূলক কম পরিচিত প্রযুক্তিটি একদম নতুন নয়। তবে নতুন খবর হলো, আইফোন ১১ সিরিজের স্মার্টফোনগুলোতে যুক্ত হচ্ছে আলট্রা ওয়াইডব্যান্ড।

বুঝলাম, তবে জিনিসটা কী?
ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ বা ফাইভ-জির মতোই তারহীন যোগাযোগের প্রযুক্তি আলট্রাওয়াইড ব্যান্ড। সংক্ষেপে ইউডব্লিউবি। এই প্রযুক্তিতে এক যন্ত্র থেকে আরেক যন্ত্রে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বেতার স্পন্দন (রেডিও পালস) পাঠানো হয়। বেতার স্পন্দন ভ্রমণের সময় মেপে নির্ধারণ করা হয় যন্ত্রটি কত দূরে আছে। আর এভাবে কোনো যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ণয় করে ইউডব্লিউবি। সে যন্ত্র স্মার্টফোন হতে পারে, চাবির রিং হতে পারে, আবার যেকোনো ধরনের ট্র্যাকিং ট্যাগ হতে পারে।

এতে কার কী লাভ?

আলট্রা ওয়াইডব্যান্ডের ব্যবহার আপাতত সীমিত হলেও ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলে মনে করা হয়। আইফোনে সংযুক্তি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলা যেতে পারে। মনে করুন, আপনার আইফোনে ইউডব্লিউবি সচল আছে। আপনি অফিসকক্ষে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে কক্ষের যন্ত্রগুলো বুঝে গেল সীমার মধ্যে আপনি আছেন। এতে কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করতে পারবে। স্মার্ট টিভি আপনার নেটফ্লিক্স অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করে দেবে। বাতি-ফ্যান-শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের স্বয়ংক্রিয় ব্যবহার তো রয়েছেই।

এরপর কাজ শেষে অফিস ত্যাগ করার সময় (নিদেনপক্ষে নির্দিষ্ট দূরত্বে গেলে) আপনার সব অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ-আউট করে দেবে। আবার বেরিয়ে গাড়ির কাছাকাছি গেলেই গাড়ির তালা খুলে যাবে নিজে নিজেই। ব্লুটুথ–নির্ভর প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অন্তত দুই সেকেন্ড সময় লেগে যায়। আবার নিরাপত্তাশঙ্কাও রয়েছে। ইউডব্লিউবি সেখানে হাজার গুণ দ্রুত কাজ করবে। নিরাপদ বলেও দাবি করা হচ্ছে।

ইউডব্লিউবির খারাপ দিক হলো, আপনার নড়াচড়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে পারবে আইফোন, কিংবা আইফোনের মাধ্যমে অন্য কোনো পক্ষ। তবে আশা করা যায়, চাইলে বন্ধ করে রাখার সুবিধাও যোগ হবে ইউডব্লিউবি যুক্ত যন্ত্রে।

কারা ব্যবহার করছে?
অ্যাপলের কথা তো আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। আইফোন ১১ সিরিজের স্মার্টফোনগুলোতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ‘ইউ১’ চিপ। প্রাথমিক ব্যবহার হিসেবে অন্য কোনো আইফোনের দিকে তাক করে এয়ারড্রপের মাধ্যমে ফাইল পাঠানো যাবে। এদিকে ইউডব্লিউবি নিয়ে কাজ করছে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনকারী স্যামসাং ও সনি, চিপ উৎপাদনকারী এনএক্সপি ও ডিকাওয়েভ, গাড়ি উৎপাদনকারী ভোকসওয়াগেন, হিউনদে ও জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার এবং গাড়ির বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বশ।
মজার ব্যাপার হলো, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে এরই মধ্যে দুটি সংগঠন দাঁড়িয়ে গেছে যারা নিজেদের মতো করে ইউডব্লিউবির প্রমিত মান নির্ধারণের জন্য কাজ করছে। সংগঠন দুটির একটি ‘ইউডব্লিউবি অ্যালায়েন্স’, অপরটি ‘ফিরা কনসোর্টিয়াম’। অ্যাপল অবশ্য একটিরও সদস্য না।

একদম নতুনও না
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফুটবল লিগের ম্যাচে খেলোয়াড়দের কাঁধে ইউডব্লিউবি ট্রান্সমিটার যুক্ত থাকে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যানিমেশন ছবিতে রিপ্লে দেখানো সম্ভব হয়। ফুটবল বিশ্বকাপেও আমরা এমন প্রযুক্তি দেখেছি। মার্কিন বিমান উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং তাদের বিশাল কারখানার ১০ হাজারের বেশি যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য বস্তুতে ইউডব্লিউবি ট্যাগ যুক্ত করেছে। এতে সেগুলো দ্রুত খুঁজে পেতে সুবিধা হয়। সূত্র: সিনেট

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন