বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এখন প্রশ্ন হলো, নাহয় কেবল মাসের শুরুতেই হোক, তবু তো চাকরিজীবীরা কফিশপে ঢুঁ দিতে পারেন ওই বেতনের জোরেই। মাস্ক তো তা-ও পান না। কীভাবে চলেন তিনি? চাল-ডাল থেকে শুরু করে মুঠোফোনের ডেটাপ্যাক কিংবা ব্যাগে করে ডাঁটাশাক তিনি কেনেন কী করে? এর সোজাসাপটা উত্তর হলো, ধারে চলেন তিনি।

সিএনএন বিজনেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিধনীরা সচরাচর ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। তা-ও প্রতিনিয়ত। জামানত হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিংবা অন্যান্য সম্পদের।

গত আগস্টে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া টেসলার নথিতে উল্লেখ ছিল, টেসলার ৮ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার জামানত রেখে মাস্ক ‘ব্যক্তিগত ঋণ’ নিয়েছেন। সে সময় ওই পরিমাণ শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।

যে ফাঁকির সুযোগ নেন অতিধনীরা

আপনি ইলন মাস্ক হলে ব্যাংকে গিয়ে হাত না কচলিয়েই বলতে পারতেন, ‘দাও দেখি বাছা এক কোটি ডলার ঋণ। অনেক দিন ভালোমন্দ খাই না, আজ ছানা দুটো নিয়ে কবজি ডুবিয়ে খাব।’ কেউ যদি এখানে খানাখাদ্যের বদলে ‘ব্যক্তিগত ইয়ট’ কিংবা ‘বিমান’ পড়েন, তবে তাঁদেরও ঠিক দোষ দেওয়া যায় না। যাহোক, এখানে জেনে রাখা ভালো, আয় করলে যেমন কর দিতে হয়, ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে সেটা ঠিক তেমন নয়।

চাহিবামাত্র ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষমতা ইলন মাস্কদের আছে। ব্যাংকও খুশি মনেই তাঁদের ঋণ দেবে। ধরলাম, সে ঋণের ওপর সুদ ধার্য করবে ৩ বা ৪ শতাংশ। এখন ইলন মাস্ক যদি ওই এক কোটি ডলার তাঁর শেয়ার বিক্রি করে পেতেন, তবে তাতে মূলধনি লাভের ওপর কর ধার্যের ব্যাপার আসত। ধরলাম, সে করহার ২০ শতাংশের আশপাশে।

default-image

তা ছাড়া একজন সিইও চাইলেই যখন–তখন শেয়ার বিক্রি করতে পারেন না। কারণ, সিইও শেয়ার বিক্রি করলে বিনিয়োগকারীরা বিচলিত হন, মনে করেন, প্রতিষ্ঠান নিশ্চয়ই কোনো বড় সমস্যার মুখে। টেসলা-প্রধানের কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া শেয়ারের সামান্য বিক্রি করেছিলেন বলেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর চলতি মাসের শুরুর দিকে ৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

ইলন মাস্ক কিংবা আমাজনের জেফ বেজোসের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামান্য কিংবা একদমই আয়কর না দেওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ব্যাংক থেকে চাহিবামাত্র স্বল্প সুদে ঋণপ্রাপ্তির এই সুযোগ।

অর্থাৎ ব্যাপারটা দাঁড়াল, টেসলা থেকে ইলন মাস্ক আয় করেন না বলে তাঁকে আয়কর দিতে হয় না। কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে এর বদলে তিনি নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ার পান, যা তাঁর সম্পদ। আর সম্পদ যতক্ষণ না বিক্রি করছেন, ততক্ষণ করারোপের প্রশ্ন আসছে না। আর এই কর ফাঁকির সুযোগই নেন অতিধনীরা। অথচ এই অতিধনীদের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কিন্তু ঠিকই আয়কর দিতে হচ্ছে।

ব্যাপারটা হতাশাজনক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে জনসাধারণের জন্য কল্যাণকর বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেন। সেগুলোর ব্যয় মেটানোর জন্য বিত্তশালীদের ওপর বিশেষ করারোপের পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। মাস্ক প্রকাশ্যে সে পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন এবং এখন পর্যন্ত তিনি সফল। কারণ, শেষমেশ কংগ্রেস যে বিল অনুমোদন করেছে, সেখানে ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’-এর কোনো উল্লেখ নেই।

আপনাদের হয়তো মনে আছে (না থাকলে এখানে পড়ে নিতে পারেন), ইলন মাস্ক টুইটারে অনুসারীদের ভোট দিয়ে জানাতে বলেছিলেন, কর দেওয়ার জন্য হলেও তাঁর ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা উচিত কি না। টেসলায় তাঁর ওই পরিমাণ শেয়ারের বাজার মূল্য তখন প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার।

ইলন মাস্ক বলেছিলেন, তাঁর অনুসারী হ্যাঁ বা না, যা-ই বলুক না কেন, তিনি সে মোতাবেক কাজ করবেন। বেশির ভাগ অনুসারী শেয়ার বিক্রির পক্ষে মত দিয়েছেন। এর পর থেকে তিনি কয়েক ধাপে বেশ কিছু শেয়ার বিক্রিও করেছেন। তবে মূল ব্যাপার হলো, কিছু শেয়ার তাঁকে এমনিতেই বিক্রি করতে হতো। সেটা অনুসারীরা বিক্রির বিপক্ষে মত দিলেও।

টেসলায় কাজের জন্য ইলন মাস্কের পারিশ্রমিকের ব্যাপারটি বেশ জটিল। তবু একটা ধারণা দেওয়ার জন্য সেটা এভাবে বলা যেতে পারে—২০২০ সালের জুনের মধ্যে টেসলার বাজারমূল্য যদি এত হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়, তবে ইলন মাস্ককে নতুন করে এতগুলো শেয়ার দেওয়া হবে। বিগত বছরগুলোতে টেসলার শেয়ারদর কেমন হু হু করে বেড়েছে, তা আমরা দেখেছি। ইলন মাস্কের ঝুলিতেও প্রতিষ্ঠানের শেয়ার জমা হয়েছে। যে শেয়ারগুলো তাঁকে এমনিতেও ২০২২ সালের আগস্টের মধ্যে বিক্রি করতেই হবে। বিক্রি না করলে টেসলার প্রায় ২ কোটি শেয়ার হারাবেন তিনি।

তাহলে অযথা এতগুলো টুইট করে বিভ্রান্তি ছড়ালেন কেন? তাঁর মনমেজাজ বোঝার সাধ্য কার!

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন