বিজ্ঞাপন

করোনার নতুন ধরনটি নিয়ে মার্চের শেষ ভাগ থেকে বেশ বিপদেই আছে ভারত। মোট সংক্রমণের পরিমাণে যুক্তরাষ্ট্রের পরই ভারতের অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত সেখানে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্তের খবর মিলেছে। আর করোনায় মৃতের পরিমাণ তিন লাখের কাছাকাছি। প্রকৃত সংখ্যাটা আরও বেশি বলে মনে করেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত শুক্রবার নির্দেশনাটি দেয় ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সে নির্দেশনায় কী বলা হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি করোনার ভারতীয় ধরন উল্লেখ করে কিংবা অন্য কোনোভাবে তা বুঝিয়ে পোস্ট করা যেকোনো কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিষয়বস্তুর উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, ‘করোনাভাইরাসের একটি ভারতীয় ধরন দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ছে, এমন মিথ্যা তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাপারটি আমাদের গোচরে এসেছে। এটা পুরোপুরি ভুয়া।’
সেই নির্দেশনাপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিন্তু তাদের কোনো প্রতিবেদনে করোনার ‘বি.১.৬১৭’ ধরনটিকে ‘ভারতীয়’ হিসেবে উল্লেখ করেনি।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বলেছেন, ‘ভারতীয় ধরন’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পোস্ট সরিয়ে ফেলা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার।

করোনার বি.১.৬১৭ ধরনটি তুলনামূলক বেশি সংক্রামক। গত বছর ভারতে ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়। এরই মধ্যে সেটি অন্য কিছু দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত থেকে প্রবেশে অনেক দেশই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর জন্য ভারত বিশাল এক বাজার। গত জানুয়ারির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যার বিচারে ভারতের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়।

ভারতীয় সরকার ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার এবং ভুল তথ্যের প্রসার রোধে’ নতুন নীতিমালা চালু করে চলতি বছরে। সে নীতিমালা অনুযায়ী ‘আইনবহির্ভূত’ কোনো কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে দেখা গেলে তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতে পারে ভারত সরকার। আর নির্দেশ অমান্য করলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে প্ল্যাটফর্মগুলো। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর পোস্টের দায় এড়াতে পারবে না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো।

নীতিমালাটি বাক্‌স্বাধীনতা খর্ব করে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে অবশ্য। এর আগে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে দেওয়া পোস্ট সরিয়ে ফেলতে টুইটার ও ফেসবুককে নির্দেশ দিয়েছিল ভারত।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন