default-image

বিল গেটস নামটি বললে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তির অবয়ব চোখের সামনে ভাসে। মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে সেভাবেই সবাই চেনে ও জানে। প্রোগ্রামিং দক্ষতার জন্য তিনি আগে থেকে পুরো বিশ্বের পরিচিত মুখ। এখন সেই বিল গেটস আবার শিরোনাম হয়েছেন খবরের। এবারের কারণ, কৃষিজমি কিনেছেন তিনি। আমেরিকার সবচেয়ে বেশি কৃষিজমির মালিক এখন তিনি। মনে করা হচ্ছে, কৃষিজমিতে নিজের দক্ষতা দেখাতে চাইছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বেশি জমির মালিক এখন বিল গেটস। মার্কিন সাময়িকী ল্যান্ড রিপোর্টের তথ্যমতে, বিল গেটস ২ লাখ ৪২ হাজার একর জমি কিনেছেন। এই জমি কিনতে বিলের পকেট থেকে খসেছে প্রায় ১২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব জমির বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও ওয়াশিংটনের অঞ্চলে কেনা। ১৮টি অঙ্গরাজ্যে তিনি জমি কিনেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি বিল গেটস কিনেছেন লুইজিয়ানায় (৬৯,০৭১ একর), আরকানসাস (৪৭,৯২৭ একর) ও নেব্রাস্কাতে (২০,৫৮৮ একর)। এ ছাড়া অ্যারিজোনার পাশের এলাকায়ও তাঁর কিছু জমি আছে। এখানে এখন নতুন শহরতলি গড়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন

দ্য ল্যান্ড রিপোর্টের তথ্য অনুসারে, বিল গেটসের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ সংস্থা ক্যাসকেড এবং তিনি নিজেই ব্যক্তিগতভাবে এসব জমিতে বিনিয়োগ করছেন। এ ছাড়া খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা ইকোলাব, ব্যবহৃত গাড়ি খুচরা বিক্রেতা ভুম এবং কানাডিয়ান জাতীয় রেলওয়ে এই খাতে বিনিয়োগ করেছে।

হঠাৎ করে বিশ্বের সেরা ধনী প্রযুক্তিবিদের এত বড় কৃষিজমির মালিক হয়ে ওঠা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেককেই বিস্মিতও হয়েছেন। তবে কৃষির প্রতি বিল গেটসের আগ্রহ এবারই প্রথম নয়; এর আগে ২০০৮ সালে বিল ও তাঁর স্ত্রী মেলিন্ডার নামে প্রতিষ্ঠিত মেলিন্ডার ফাউন্ডেশন আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চ ফলন, টেকসই ক্ষুদ্র কৃষি উন্নয়নে ৩০৬ মিলিয়ন ডলার অনুদান হিসেবে দিয়েছিলেন। পরে ওই সংস্থার পক্ষ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অধিক দুধ উৎপাদন নিয়ে একটি প্রজেক্টের বিকাশ ও সম্প্রসারণেও বিনিয়োগ করেছিলেন।

বিল গেটস এত কৃষিজমি কিনে কী করবেন, তা এখন পর্যন্ত পরিষ্কার জানা যায়নি। কারণ, ফোর্বসের পক্ষ থেকে ক্যাসকেডের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে গেটস দম্পতির যে দাতব্য সংস্থা আছে, সেটার কাজে লাগবে, এমন উদ্দেশ্যেই সেখানে কিছু করা হবে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ।

গেটস ছাড়া অন্য ধনকুবেররাও জমি কিনেছেন। ওয়ান্ডারফুল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা স্টুয়ার্ট এবং লিন্ডা রেসনিকও (মোট সম্পদ ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন) জমিতে বিনিয়োগ করেছেন। তাঁরা ১ লাখ ৯০ হাজার একর জমি কিনেছেন। তাঁরা জমির মালিকানার দিক দিয়ে তৃতীয়। লিবার্টি মিডিয়ার প্রধান জন মেলন ২২ লাখ একর জমির মালিক, সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নারের আমেরিকার আটটি অঙ্গরাজ্য আছে ২০ লাখ। আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বোজেস লাখ একর জমিতে বিনিয়োগ করে রেখেছেন।

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন