default-image

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ভবিষ্যতে চাঁদে অভিযানের জন্য নতুন একটি অবতরণযান বানাচ্ছে। নভোচারীকে নিয়ে চাঁদের বুকে নামবে যানটি। চাদে নামার এই অবতরণ যান তৈরির দায়িত্ব নাসা দিয়েছে ধনকুবের ইলন মাস্কের রকেট নির্মাতা কোম্পানি স্পেসএক্সকে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে নাসা চাঁদে অবতরণযান পাঠাবে। সেই অবতরণ যান নির্মাণের চুক্তি গত শুক্রবার হয়েছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে। এই অবতরণ যান তৈরির কাজ পেতে বিশ্বের প্রথম ও তৃতীয় ধনকুবেরের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছে। নাসার এ কাজ পাওয়ার জন্য স্পেসএক্সকে বেশ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে। এর মধ্যে ছিল আমাজনের মালিক জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিযোগিতা শেষে জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠানকে সরিয়ে তৃতীয় ধনকুবের ইলন জয়ী হয়।

আর্টেমিস নামের এক অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদে মানুষ পাঠাবে নাসা। এতে নভোচারীদের মধ্যে একজন নারীও থাকবেন, যিনি হবেন চাঁদের বুকে অবতরণকারী প্রথম নারী। ওই অভিযানের আরও একটি লক্ষ্য হচ্ছে চাঁদে অবতরণকারীদের মধ্যে একজন অশ্বেতাঙ্গ নভোচারী রাখা। স্পেসএক্স যে চন্দ্রযানটি তৈরি করবে, তা তাদের ‘স্টারশিপ’ নামের মহাকাশযানের নকশার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হবে। এই স্টারশিপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। নাসার সঙ্গে স্পেসএক্সের এই চুক্তি হয়েছে ২৯০ কোটি ডলারের।

বিজ্ঞাপন

ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান বহুদিন ধরেই স্টারশিপ নামের মহাকাশগামী রকেটযান তৈরির কর্মসূচি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কল্পবিজ্ঞান কাহিনিগুলোতে যে ধরনের গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ঘুরে বেড়ানো মহাকাশযানের কথা বলা হয়, সেই ভাবনা থেকেই এই স্টারশিপ তৈরি করা হচ্ছে। এর দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য মঙ্গলগ্রহে মানুষের আবাস প্রতিষ্ঠা। তবে নাসার জন্য যে চন্দ্রযান স্পেসএক্স তৈরি করবে, তার কাজ হবে ভিন্ন ধরনের।

নভোযানটি মূলত চাঁদের কক্ষপথে থাকা মূল মহাকাশযান থেকে নভোচারীদের চাঁদের মাটিতে নামানো এবং সেখান থেকে আবার মূল যানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করবে। এতে থাকবে একটি কেবিন আর দুটি ‘এয়ার লক’, যার মাধ্যমে নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে হাঁটাচলার জন্য বেরোতে পারবেন। এর নাম হবে এইচএলএস বা হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম। ষাট ও সত্তরের দশকে যেসব ‘লুনার মডিউল’ দিয়ে নভোচারীরা চাঁদের বুকে নেমেছিলেন, তার চাইতে এই এইচএলএস হবে অনেক উন্নত মানের। লুনার মডিউল ছিল আকারে অনেক ছোট। তাতে দুজন নভোচারীকে ঠাসাঠাসি করে বসতে হতো। এভাবেই ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত মোট ১২ জন নভোচারী চাঁদে নেমেছিলেন।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন