default-image

আমাদের অভিজ্ঞতায় জানি, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বেশির ভাগ ব্যক্তিই কিছু দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। অনেকের হাসপাতালেও যেতে হয় না। কিন্তু আবার কেউ কেউ করোনা নেগেটিভ হওয়ার পরও নানা ধরনের জটিলতায় ভোগেন। যেমন দুর্বলতা, খাওয়ায় অরুচি, এমনকি শ্বাসকষ্টও হয়। সুস্থ হওয়ার পর মাসখানেক বা তারও বেশি সময় ধরে শারীরিক সমস্যা চলতে থাকে। এর কারণ কী? এটা কি স্বাভাবিক? করোনার এই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং এর চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা চলছে। এ বিষয়ে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’–এ (১২ অক্টোবর ২০২০) একটি বিস্তৃত লেখা ছাপা হয়েছে।

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে মায়ও ক্লিনিকের (the Mayo Clinic) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী পরীক্ষায় দেখা গেছে, কোভিড–১৯–এর পর হৃদযন্ত্রের পেশির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, কিডনি ও লিভারেরও ক্ষতি হতে পারে। সবার হয় না, কারও কারও হয়।
কোভিড–১৯ মস্তিষ্কেরও ক্ষতি করতে পারে। স্ট্রোক হয়। চিকিৎসার জন্য খুব বেশি দিন আইসিইউতে থাকতে হলে রোগীর মানসিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। এমনকি এই সব স্নায়ু বৈকল্যের কারণে পরে তাদের পারকিনসন্স ডিজিজ বা আলঝেইমারস ডিজিজ হতে পারে কি না, সে আশঙ্কাও বিজ্ঞানীরা করছেন। ঘুমের সমস্যা, মানসিক আতঙ্ক ও অন্যান্য মানসিক ব্যাধি অনেক দিন পর্যন্ত চলতে পারে।

এর কারণ হলো করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রের সেলগুলোকে আক্রমণ করে। ফুসফুসের বায়ু থলিগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ জন্যই শ্বাসকষ্ট হয়। রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। ফলে ধমনিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। এই জমাট বাঁধা রক্ত গুটি স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে ওঠে। অনেকে সুস্থ হয়ে উঠলেও রোগ–পরবর্তী সমস্যা চলতে থাকে।

সে জন্য নিয়মিত ব্যয়াম, বিশেষভাবে বুকভরে শ্বাস নেওয়ার ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যায়। রোগীর মনের জোর রাখতে হবে। তাহলে মানসিক ব্যাধি কাউকে সহজে কাবু করতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন

ভিটামিন ডি–এর প্রয়োজনীয়তা

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন ডি–এর প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি। অন্যান্য ভিটামিন, পুষ্টিকর খাদ্যদ্রব্য ও খনিজ পদার্থের পাশাপাশি বিশেষভাবে ভিটামিন ডি কোভিড–১৯ রোধে ভূমিকা রাখে। সাধারণত শাকসবজি ও ফলমূল থেকে ভিটামিন ডি শরীরে সঞ্চিত হয়। সূর্যের আলোর অতিবেগুনি রশ্মি–বি আমাদের ত্বকে নিষ্ক্রিয় ভিটামিন ডি সক্রিয় করে। বয়স বাড়লে ভিটামিন ডি–এর অভাব দেখা দেয়। এ সময় সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ক্যাপসুল আকারে ভিটামিন–ডি গ্রহণ করা যায়।
যাদের ত্বকের রং একটু গাঢ় বা কালো, তাদের বেশিক্ষণ সূর্যরশ্মি গ্রহণ করতে হয়। কারণ কালো রং ভেদ করে অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ভেতরে যেতে বাধা পায়।

বিজ্ঞাপন

আমরা কতটা নিরাপদ

সম্প্রতি আমাদের দেশে করোনায় সংক্রমণের হার কমছে। কিন্তু আশঙ্কা এখনো বেশিই বলা যায়। সুতরাং জীবিকার পাশাপাশি জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতাগুলো আমাদের মেনে চলতে হবে। আমরা যদি শুধু বাইরে সব সময় মাস্ক ব্যবহার করি এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলি, একটু পরপর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিই, তাহলে অন্তত ৯০–৯৫ ভাগ আশঙ্কামুক্ত থাকতে পারি। এই নীতি আমাদের নতুন জীবনযাত্রা প্রণালি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

আব্দুল কাইয়ুম, মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক
quayum.abdul@prothomalo.com

মন্তব্য পড়ুন 0