default-image

যাওয়ার কথা ছিল আঁলিয়স ফ্রঁসেজে। সেখানে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হবে একটি চিত্র প্রদর্শনী। শিরোনাম ‘অনুভূত আলো-আঁধার’। কিন্তু হাতে যে অনেক সময়—প্রায় দুই ঘণ্টা! রিকশা তখন ধানমন্ডির বায়তুল আমান মসজিদের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের লাল ভবনটা খানিক বাদে চোখে পড়তেই নেমে পড়লাম। অনেক দিন এদিকটায় আসা হয় না।
গতকাল এখানে চলছিল রাশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি বিজন সাহার আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ২৪ ডিসেম্বর শেষ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তাঁর ছবিগুলোই ঝুলছে দেয়ালে। ভরদুপুরেও কয়েকজন দর্শকের দেখা মিলল।
প্রদর্শনী দেখা শেষে সোজা ধানমন্ডি ৯। গন্তব্য জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যার আরেক নাম গ্যেটে ইনস্টিটিউট। শিক্ষার্থীদের আনাগোনা দেখা গেল। কেউ লাইব্রেরিতে পড়ছিলেন, কেউবা আড্ডা দিচ্ছিলেন সামনের ক্যাফেতে বসে। সেখানে কোনো অনুষ্ঠান তখন চলছিল না। কাছেই রবীন্দ্রসরোবর। এখানেও ছিল না কোনো আয়োজন। তবে অনুষ্ঠানহীন রবীন্দ্রসরোবরে এক বাঁশিওয়ালার বাঁশি মন জুড়িয়ে দিল। মূল মঞ্চের কাছে একদল তরুণ গিটার বাজিয়ে গলা খুলে গাইছিলেন। গান শুনতে শুনতে হঠাৎ খেয়াল হলো, ‘এই রে, আঁলিয়সে তো যেতে হবে!’ হাতে তখন মাত্র ১৫ মিনিট! তাড়াতাড়ি একটা রিকশা করে মিরপুর রোডের ফরাসি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আঁলিয়স ফ্রঁসেজে। তখনো অনুষ্ঠান শুরু হয়নি। প্রায় ৩০টি চিত্রকর্মের দলগত প্রদর্শনী শুরু হবে অতিথিরা আসার পর। এর মধ্যে পরিচয় হলো অংশগ্রহণকারী দুই শিল্পী এ এস এম রাশিদুল আলম ও আল-আখির সরকারের সঙ্গে। আরও তিন অংশগ্রহণকারী হলেন আজমল হোসেন, সৈয়দ ফিদা হোসেন ও সুলতান ইশতিয়াক।
কিছুক্ষণ পর এসে পৌঁছলেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথিরা। ছিলেন চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বারক আলভী, অধ্যাপক জামাল আহমেদ, জাতীয় সংসদে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল মান্নান, আঁলিয়সের ডিরেক্টর ব্রুনো প্লাস। প্রধান অতিথি শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ ধরনের প্রদর্শনী উদ্বোধন করতে বেশি যাওয়া হয় না, কারণ নিজের কাজের ক্ষতি হয়। কিন্তু এ তরুণ শিল্পীদের ছবিগুলো খুব ভালো হয়েছে। আশা করি, এরা সামনে আরও ভালো করবে।’
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ঘুরে ঘুরে ছবিগুলো দেখেন। এ সময় শিল্পী শাহাবুদ্দিন শিল্পীদের সঙ্গে ছবিগুলো নিয়ে কথা বলেন, জানান নিজের অনুভূতি। সুলতানের কাজগুলো ছিল পুরান ঢাকার খণ্ড খণ্ড চিত্র নিয়ে। আল-আখিরের চিত্রকর্মগুলো কিছুটা বিমূর্ত। রাশিদুলের কাজ ভালোবাসা, স্নেহ, সুখে আবদ্ধ শৈশবকে মনে করিয়ে দেয়। মানুষের জীবনসংগ্রাম ছিল আজমলের কাজের বিষয়। আর ফিদা আঁকতে চেয়েছেন মানুষের অস্তিত্বের রহস্যময় যাত্রার ছবি। এ প্রদর্শনী চলবে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রোববার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে আঁলিয়সের লা গ্যালারি ঘুরে যেতে পারেন।

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন