বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

গানে যে ঢঙটা আমাদের কাঁদায়, ছবিতে সেটা কেমন হবে? গল্প ছাড়া শুধু বিচ্ছেদী ঢঙে কেন ছবি হবে না? গল্প বলা তো সাহিত্যের কাজ, ছবির ভাষা কেন সাহিত্যের মতো গল্পনির্ভর হবে? এসব আগডুম-বাগডুম ভাবি আর ‘শিকলবাহা-অন্যদিন’-এর ফাঁকে ফাঁকে, একটু খসড়া করি ‘নীল মুকুট’-এর, এখানে–ওখানে বলা শুরু করি আইডিয়া—শুরু হয় এক অন্য যুদ্ধ, যোগাযোগের, গবেষণার, অর্থায়নের, অনুমতির। ছবি যাদের নিয়ে বানাব, তাদের অনুমতি পেতেই কেটে যায় দুই বছর—যে যুদ্ধটা প্রায় একাই করেছে সারা আফরীন, আমার প্রযোজক। এরপর অন্য দুই ছবির ফাঁকে ফাঁকে শুটিং-সম্পাদনা। মাঝখানে ‘শিকলবাহা-অন্যদিন’ নিয়ে ব্যস্ততা বেড়ে গেল খুব। অফিশিয়াল নিমন্ত্রণে একবার লোকার্নোতে যেতে হলো, আরেকবার কানে।

২০২০-এর শুরুতেই সিদ্ধান্ত নিলাম, আগে ‘নীল মুকুট’ মুক্তি দেব, তারপর অন্য কিছু। আমিও শুরু করলাম, করোনাও শুরু হলো—যেন পিঠাপিঠি। ২৭ মার্চ ছবি মুক্তি, ২৫ মার্চ লকডাউন।

default-image

আগেরবার দেশে না দেখায় একের পর এক উৎসবে ‘শুনতে কি পাও!’ প্রদর্শনী আর পুরস্কার নিয়ে অনেক রকম কথা শুনতে হয়েছিল। এবার তাই ঘোষণা দিয়েছিলাম ‘নীল মুকুট’ কোনো উৎসবে মুক্তি দেওয়ার আগে দেশেই দেখাব। অপেক্ষা করতে থাকলাম। অপেক্ষার আরেক নাম জীবন, জানতাম। এইবার জীবনের আরেক নাম হয়ে গেল সিনেমা, সিনেমার নাম লকডাউন!

একজীবনে হয় না অনেক কিছুই—‘জানি আমি; তবু, এই পৃথিবীর ফসলের ভূমি আকাশের তারার মতন ফলিয়া ওঠে না রোজ।’ ঘনিষ্ঠ এক শুভাকাঙ্ক্ষী একদিন হঠাৎই চরকিতে ‘নীল মুকুট’ মুক্তির প্রস্তাব দিলেন। ঘরে ঘরে বন্ধুজনে শুনি চরকির কথা। কেমন যেন ‘আমাদের-আমাদের’ গন্ধ পাই, নতুনের গন্ধ পাই। নতুন কিছু শুনলেই আমি শিহরিত হই। প্রথম কিছু দেখলেই আমার সাধ জাগে, আমি ছুটে যাই। আমি ভাবতে শুরু করি, এই যে গ্রহণকাল, দমবন্ধ সময়, অক্সিজেনের অভাব আর মৃত্যুর মিছিল, শুধু এটাই কি আমাদের সময়ের গল্প? এই যে আমরা, যাঁরা একটু স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতাম, মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে ভালোবাসতাম, এই বন্দী সময়ে আমাদের কি কোনো গল্প নেই? এই সময়টা কি আমাদেরও ছিল না! ঠিক করলাম যা থাকে কপালে, মুক্তি দেব ‘নীল মুকুট।’ যদি হল খোলে, তাহলে প্রথমে সিনেমা হলে, তারপর চরকিতে। আর যদি হল না খোলে তাহলে সরাসরি চরকিতেই চরকা কাটুক ‘নীল মুকুট!’

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন