স্বপ্নপূরণের পথে ফারহান, হলিউডে পণ্ডিত রবিশঙ্কর হয়ে নতুন অধ্যায়

রবিশঙ্কর ও ফারহান আখতার। কোলাজ

বলিউডে অভিনেতা, নির্মাতা, গায়ক—সব পরিচয়ের ভেতর দিয়ে নিজস্ব এক পরিচিতি গড়ে তুলেছেন ফারহান আখতার। এবার সেই যাত্রায় যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক—হলিউডে অভিষেক। ব্রিটিশ নির্মাতা স্যাম মেন্ডেসের নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত চার পর্বের চলচ্চিত্র প্রকল্পে তিনি রূপ নিচ্ছেন ভারতীয় সেতারসম্রাট রবিশঙ্করের চরিত্রে। ছবিগুলো তৈরি হচ্ছে কিংবদন্তি ব্যান্ড দ্য বিটলসক কেন্দ্র করে।

‘স্বপ্নের মতো’ সুযোগ
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাস্টিং ঘোষণাটি শেয়ার করে ফারহান লিখেছেন, এই প্রকল্পের অংশ হতে পেরে তিনি সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। বিটলস ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের সৃজনশীল উত্তরাধিকার প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা—এ কথা উল্লেখ করে তিনি নির্মাতা স্যাম মেন্ডেসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর ভাষায়, এমন একজন নির্মাতার পরিচালনায় কাজ করা ‘স্বপ্নের মতো ব্যাপার’।

চার চলচ্চিত্রে বিটলসের কাহিনি
‘দ্য বিটলস: আ ফোর-ফিল্ম সিনেম্যাটিক ইভেন্ট’—নামেই যার ব্যাপ্তির আভাস। চারটি আলাদা চলচ্চিত্রে ব্যান্ডটির গল্প বলা হবে প্রত্যেক সদস্যের দৃষ্টিকোণ থেকে। এই প্রকল্পে পল মেসকাল অভিনয় করছেন পল ম্যাকার্টনি, হ্যারিস ডিকিনসন জন লেনন, ব্যারি কিওগান রিঙ্গো স্টার এবং জোসেফ কুইন জর্জ হ্যারিসনের ভূমিকায়।
১৯৬০ সালে লিভারপুলে গঠিত বিটলস বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে এক বিপ্লবের নাম। ‘হে জুড’, ‘ইয়েস্টারডে’, ‘আই ওয়ান্ট টু হোল্ড ইউর হ্যান্ড’—এমন অসংখ্য গান আজও জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ। ১৯৭০ সালে ভেঙে যাওয়ার পরও তাঁদের প্রভাব অটুট।

ফারহান আখতার। এক্স থেকে

রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসন: এক সেতুবন্ধ
এই গল্পে পণ্ডিত রবিশঙ্করের উপস্থিতি কেবল পার্শ্বচরিত্র নয়; বরং এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধ। জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব এবং সেতার শিক্ষার সম্পর্ক বিটলসের সংগীতে ভারতীয় ধ্বনির প্রবেশ ঘটায়। ‘নরওয়েজিয়ান উড’, ‘উইদইন ইউ উইদাউট ইউ’, ‘লাভ ইউ টু’—এই গানগুলোয় ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার সেই সময়ের পাশ্চাত্য সংগীতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।

১৯৭১ সালে রবিশঙ্কর ও হ্যারিসনের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’, যা বৈশ্বিক মানবিক উদ্যোগের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। ফলে ফারহানের কাঁধে যে চরিত্রটি এসেছে, তা শুধু একজন সংগীতশিল্পীর জীবনী নয়; বরং দুই সংস্কৃতির মিলনের প্রতীক।

আরও পড়ুন

হলিউডে ফারহানের নতুন পরিচয়
এটি ফারহান আখতারের পশ্চিমা চলচ্চিত্রে বড় পর্দার প্রথম কাজ। তবে এর আগে তিনি ২০২২ সালে মার্ভেল স্টুডিওসের ধারাবাহিক ‘মিস মার্ভেল’-এ একটি ক্যামিও চরিত্রে দেখা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিটলসের মতো বৈশ্বিক আইকনের জীবনীভিত্তিক প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় নিঃসন্দেহে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।
বলিউডে ‘দিল চাহতা হ্যায়’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ, ‘রক অন!!’ দিয়ে অভিনেতা-গায়ক পরিচয়, কিংবা ‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এ অনবদ্য অভিনয়—প্রতিটি ধাপে ফারহান নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়েছেন। এবার তাঁকে দেখা যাবে সেতারের সুরে বিশ্বসংগীতের এক কিংবদন্তিকে জীবন্ত করে তুলতে।

ফারহান আখতার। অভিনেতার ইনস্টাগ্রাম থেকে

প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ
রবিশঙ্করের মতো কিংবদন্তিকে পর্দায় তুলে ধরা সহজ নয়। তাঁর ব্যক্তিত্ব, সুর সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে পৌঁছে দেওয়ার সংগ্রাম—সবই সূক্ষ্ম ও গভীর। ফারহানকে তাই কেবল অভিনয় নয়, এক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করতে হবে।
ছবিগুলো মুক্তি পাওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। এখন থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় দর্শকদের কাছেও আগ্রহ কম নয়—কীভাবে একজন বলিউড তারকা বিশ্বসংগীতের কিংবদন্তি হয়ে উঠবেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

ফারহানের নিজের কথাতেই যেন সারকথা ধরা আছে—এ সুযোগ ‘স্বপ্নের মতো’। সেই স্বপ্ন কতটা উজ্জ্বল হয়ে পর্দায় ধরা দেয়, তা জানতে অপেক্ষা আরও দুই বছর। তবে এই ঘোষণাই প্রমাণ করে, ভারতীয় শিল্পীরা এখন আর কেবল সীমান্তের ভেতর আবদ্ধ নন; তাঁরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের গল্প বলার জন্য।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে