বিরল রোগে ১১ বছর বয়সী সন্তানের মৃত্যু, বাবা এখনো ভাবেন আয়ুষ ফিরে আসবে
ভারতীয় অভিনেতা ও উপস্থাপক শেখর সুমন সম্প্রতি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর বড় ছেলে আয়ুষ সুমন মাত্র ১১ বছর বয়সে এক বিরল হৃদ্রোগে মারা যায়। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত আজও শুকায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
যে রোগ বদলে দিয়েছিল পুরো পরিবারকে
শেখর সুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর বাবা, যিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন, আয়ুষের শরীরে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, শিশুটি অত্যন্ত বিরল হৃদ্রোগ এন্ডোমায়োকার্ডিয়াল ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত। চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানিয়েছিলেন, রোগটির কার্যকর চিকিৎসা নেই এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও খুব কম।
শেখর পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চিকিৎসকেরা যেখানে কয়েক মাস সময় দিয়েছিলেন, সেখানে আয়ুষ প্রায় চার বছর লড়াই করে বেঁচে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল মাত্র ১১ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
‘আমরা কখনোই ওকে ভুলতে পারিনি’
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে শেখর বলেছেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী অলকা সুমন আজও প্রতিদিন আয়ুষের কথা বলেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা ওর সঙ্গে কথা বলি, ওর ছবির সঙ্গে কথা বলি। ওকে নিয়ে প্রতিদিন কথা হয়। আমরা কখনোই ওকে ভুলে যেতে পারিনি।’
এর আগেও তিনি স্বীকার করেছিলেন, সন্তানের মৃত্যুর পর তিনি ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘ সময় তীব্র বিষণ্নতার মধ্যে ছিলেন। এমনকি একসময় তাঁর বেঁচে থাকার ইচ্ছাও হারিয়ে গিয়েছিল।
ঈশ্বরের ওপর অভিমান
আয়ুষের মৃত্যুর ধাক্কা শেখরকে আধ্যাত্মিকভাবেও নাড়া দিয়েছিল। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ছেলেকে হারানোর পর তিনি বাড়ির মন্দির বন্ধ করে দেন এবং দেবদেবীর মূর্তি সরিয়ে ফেলেন। ঈশ্বরের ওপর গভীর অভিমান জন্মেছিল তাঁর।
তবে সময়ের সঙ্গে সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে অন্য রূপ নেয়। তিনি আবার আধ্যাত্মিকতার দিকে ফিরে আসেন এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেন, মৃত্যুর পরও আয়ুষ কোনো না কোনোভাবে তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে।
‘আয়ুষ আবার ফিরে আসবে’
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল শেখরের একটি ব্যক্তিগত বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, তাঁর মনে হয় আয়ুষ একদিন তাঁদের পরিবারে আবার ফিরে আসবে—তাঁর ছোট ছেলে অধ্যায়ন সুমনের সন্তান হয়ে।
শেখরের দাবি, অনেক আধ্যাত্মিক ব্যক্তি এবং পুরোহিত তাঁকে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তিনি নিজেও সেই বিশ্বাসে আস্থা রাখেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে