জাতীয় পুরস্কার জেতা সেই অভিনেত্রী কেন আড়ালে চলে গেলেন
একসময় দাপটের সঙ্গে শাসন করেছেন সিনেমা ও টিভি দুনিয়া, জিতেছেন ভারতের জাতীয় পুরস্কারও। কিন্তু হঠাৎই সব ছেড়ে দিয়ে কার্যত আড়ালে চলে যান। এই অভিনেত্রী আর কেউ নন, রোহিণী হট্টঙ্গডি।
প্রশংসিত অভিনেত্রী
অভিনয়জগতে কিছু শিল্পী ছাপ রেখে যান, কিছু শিল্পী রেখে যান উত্তরাধিকার; রোহিণী হট্টঙ্গডি তাঁদের একজন। মঞ্চ, সিনেমা ও টেলিভিশন—সব মাধ্যমেই স্বচ্ছন্দে অভিনয় করে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছিলেন। আজ ৭৫ বছর বয়সেও তিনি একই রকম স্পষ্টবাদী। ‘গান্ধী’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য প্রথম ভারতীয় হিসেবে বাফটা পুরস্কার জেতা এই শিল্পী ‘পার্টি’ সিনেমার জন্য ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান।
কেন টেলিভিশন ছাড়লেন
কিন্তু বহু ভাষা, বহু মাধ্যম, বহু দশকজুড়ে সফল ক্যারিয়ারের পরও তিনি এখন টেলিভিশন থেকে দূরে। কেন? দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালকে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন—টেলিভিশনের অবিরাম চাপই তাঁকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।
‘যখন আমরা ছোট ছিলাম, জিম বলে কিছু ছিল না। কাজই ছিল ব্যায়াম,’ এভাবেই শুরু করেন রোহিণী। কিন্তু টেলিভিশনে প্রতিদিনের শুটিং, ভোরবেলা কলটাইম, গভীর রাতে বাড়ি ফেরা—এই রুটিন শরীর ও মন দুটোই শুষে নিচ্ছিল।
তিনি বলেন, রাত ১১টায় শুটিং শেষে বাড়ি ফিরেই আবার সকাল ৬টায় বেরোতে হতো। ‘ব্যায়াম করার সময় নেই, বিশ্রাম নেই, শ্বাস নেওয়ার সময় নেই—এমন অবস্থা হচ্ছিল,’ বলেন রোহিণী।
শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝতে পারেন, যে গতি ও চাপ চলছে, তা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তির জন্যই তিনি টেলিভিশন থেকে সরে যান।
মারাঠি টিভি ইন্ডাস্ট্রির কোন ব্যাপারটা তাঁর সবচেয়ে বিরক্তিকর লাগত? রোহিণী স্পষ্ট ভাষায় জানান—অনুশাসনের অভাবই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় সমস্যা।
প্রায়ই তাঁকে হঠাৎ ফোন করে সেটে ডেকে নেওয়া হতো, স্ক্রিপ্টে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হতো, নতুন দৃশ্য যোগ হতো—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলা চলত নিয়মিত।
তিনি বলেন, এ ধরনের কাজের পরিবেশ তিনি মেনে নিতে পারেননি। তাই নীরবে সরে আসাই বেছে নেন।
‘শাহেনশাহ’-র সেটে কী হয়েছিল
এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তাঁর দিল্লির থিয়েটার জীবনের কথাও। তাঁর হিন্দি উচ্চারণ নিয়ে তখন নিয়মিতই ঠাট্টা করতেন অন্যরা। কেউ ঠাট্টা করতেন, ‘আপনার হিন্দিতে নাকি একটু পাঞ্জাবিয়ানা আছে!’ এরপর তিনি শেয়ার করেন ‘শাহেনশাহ’ ছবির একটি ঘটনার কথা। ‘মেরে অঙ্গনে মে’ গানের সময় অমিতাভ বচ্চনের অভিনয়শৈলী তাঁর পছন্দ হয়নি—আর তিনি সেটা সরাসরি বলে ফেলেছিলেন।
‘আমি শুধু বলেছিলাম—অমিতাভ বচ্চনের মতো অভিনেতা এমনভাবে নাচবেন কেন! সমালোচনা নয়, বিস্ময় থেকে বলেছিলাম,’ ব্যাখ্যা করেন তিনি। কিন্তু মাঝপথেই বুঝতে পারেন—তিনি সীমা ছাড়িয়ে ফেলেছেন। অমিতাভ কিছু না বলেই নীরবে সরে যান। ‘আমি জানি না তিনি মনে রেখেছেন কি না, কিন্তু আমি ভুল করেছিলাম। তাঁর শান্ত থাকা—ওটাই তাঁর মাহাত্ম্য’ বলেন রোহিণী।
ফ্রি প্রেস জার্নাল অবলম্বনে