‘হুঙ্কার’ এক কিশোরীর দ্রুত বড় হয়ে ওঠার গল্পও

অনীত পাড্ডা। ছবি : অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

২০২৫ সালে ‘সাইয়ারা’র সাফল্যের পর প্রচারের আলো থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন অনীত পাড্ডা। সম্প্রতি ‘হুঙ্কার: দ্য রোর’ সিরিজের ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে তাঁকে পাওয়া গেল। সাইয়ারার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রচার অনুষ্ঠান। গণমাধ্যমের মুখোমুখিও হলেন প্রথমবার। ফলে অনীতকে ঘিরে পাপারাজ্জি ও গণমাধ্যমকর্মীদের আগ্রহ ছিল বাড়তি।

অনুষ্ঠানে অনীতের সঙ্গে ছিলেন ফাতিমা সানা শেখ, রঘুবীর যাদব, জোয়া হুসেন, মোহাম্মদ জিশান আয়ুব ও পরিচালক নিত্যা মেহরা। অনীতের কবিতা পাঠ দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। পরে সিরিজ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনান তিনি। হুঙ্কার–এর বিষয়বস্তুই অনীতকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতা জনসমক্ষে এলে কীভাবে অন্যের মতামতের চাপে তার অর্থ বদলে যেতে থাকে, সিরিজে সেই প্রশ্নই উঠে এসেছে।

অনীত বলেন, ‘কেউ নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরলে খুব দ্রুত সেটি সবার আলোচনার বিষয় হয়ে যায়। চারপাশ থেকে শুনতে হয়—তোমার এটা করা উচিত ছিল, ওটা বলা উচিত ছিল। এত মতামতের মধ্যে একসময় মানুষ নিজের সত্য নিয়েও সংশয়ে পড়ে। আমার কাছে এটাই হুঙ্কার–এর মূল বিষয়।’

সিরিজে অনীত ১৭ বছরের কিশোরী মীনু রাওয়াত। তার জীবনে ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। নিজেই যখন সেই অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারছে না, তখনই তাকে এ নিয়ে কথা বলতে হয়। চরিত্রটির বয়স অনীতের বাস্তব বয়স থেকে খুব বেশি দূরের নয়। তিনি বলেন, ‘অডিশনের সময় আমার বয়স ছিল ১৯, শুটিংয়ের সময় ২০। মীনুর বয়স ১৭। তাই চরিত্রটির বয়স আমার কাছে স্বাভাবিকভাবেই এসেছে। তবে সিরিজের বিষয়টি এত শক্তিশালী ও সংবেদনশীল যে আমার মতো কম বয়সী কারও পক্ষে পুরোটা বোঝা সহজ ছিল না।’

চিত্রনাট্য পড়তে পড়তে মীনুর মানসিক টানাপোড়েনের সঙ্গেও নিজেকে মিলিয়ে ফেলেছিলেন অনীত। তাঁর ভাষায়, ‘একসময় আমারও মনে হচ্ছিল, আমি কি মিথ্যা বলছি? অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি এত জোরালো হয়ে উঠছিল যে নিজের সত্য নিয়েও প্রশ্ন জাগছিল।’

অনীত পড্ডা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মীনুকে শুধু তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা দিয়ে বিচার করতে চান না অনীত। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, ঘটনার পর মেয়েটি কীভাবে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। অনীত বলেন, ‘মীনু অল্পবয়সী। তার মধ্যে অনেক জটিলতা আছে। তাকে সব সময় বোঝা সহজ নয়। এ কারণেই চরিত্রটি এত বাস্তব। তবে একটা জায়গায় সে একই রকম—কারও কাছে চুপ করে থাকবে না।’

চরিত্রটির প্রস্তুতিতে কর্মশালাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দ্বিতীয় দিন অভিনয়ের শিক্ষক রচিত তাঁকে কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল, ‘আপনি কি ভুক্তভোগী?’ ‘আপনার কেমন লাগছে?’ অনীত জানান, তাঁর উত্তরগুলো এসেছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে। সেখানে ভয় ও রাগের পাশাপাশি ছিল অনিশ্চয়তা ও দৃঢ়তা। কর্মশালার সেই অভিজ্ঞতার ছাপও পরে সিরিজে জায়গা পেয়েছে।

আরও পড়ুন

অনীতের কাছে হুঙ্কার শুধু একটি ঘটনার গল্প নয়, এটি এক কিশোরীর দ্রুত বড় হয়ে ওঠার গল্পও। তাঁর কথায়, ‘মাত্র ১৭ বছরের একটি মেয়েকে খুব কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ফলে সময়ের আগেই তাকে বড় ও পরিণত হয়ে উঠতে হয়।’
বিরলা স্টুডিওস ও অ্যাপলজ এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে `হুঙ্কার: দ্য রোর' প্রযোজনা করেছে পার্পল পেবল পিকচার্স। সিরিজটির নির্বাহী প্রযোজক প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ভিডিও বার্তা পাঠান তিনি।
`হুঙ্কার: দ্য রোর' ২৫ সেপ্টেম্বর জিওহটস্টারে মুক্তি পাবে।