‘দৃশ্যম’ প্রভাব
২০১৫ সালে মুক্তির পর নিশিকান্ত কামাত পরিচালিত ‘দৃশ্যম’ সুপারহিট হয়। দক্ষিণ ভারত ছাড়া অন্য প্রান্তের দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয় সিনেমাটি। সপরিবার দারুণভাবে উপভোগ করেন তাঁরা। এমনকি মুক্তির অনেক পরেও টিভিতে প্রচারের সময়ও ভালো টিআরপি পেয়েছে ‘দৃশ্যম’। এ ছাড়া ‘দৃশ্যম’-এর অনেক স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সব মিলিয়ে ‘দৃশ্যম’-এর প্রথম কিস্তি দেখার সুখস্মৃতি এখনো অনেকের কাছে তাজা। ফলে দর্শকেরা ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে ছুটেছেন ছবিটির দ্বিতীয় কিস্তি দেখতে।

পারিবারিক দর্শক
ভারতে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখার চল আছে। বিশেষ করে, বড় শহরগুলোর বাইরে এখনো মানুষ দল বেঁধে সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন। ভারতের গ্রাম বা মফস্‌সলের দর্শকেরা যদি কোনো সিনেমা দল বেঁধে দেখা শুরু করেন, তবে সে ছবি অবধারিতভাবে হিট হয়। ‘দৃশ্যম টু’-এর ক্ষেত্রেও সেটি হয়েছে।

মূল সিনেমার হিন্দি ডাব না আসা
চলতি বছর দক্ষিণি সিনেমার হিন্দি রিমেক ‘জার্সি’, ‘বিক্রম বেদা’ ফ্লপ হয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সিনেমাগুলো ফ্লপ হওয়ার অন্যতম কারণ ছবি দুটির হিন্দি ডাব ইউটিউবে চলে আসা। কিন্তু ‘দৃশ্যম টু’-এর ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। মূল ছবিটি ওটিটিতে মুক্তির পর হিন্দি ডাব এখনো মুক্তি পায়নি। ভারতে এখনো বড় সংখ্যায় দর্শক সাবটাইটেল দিয়ে দক্ষিণ ভারতের সিনেমা দেখতে অভ্যস্ত নয়। এতে মালয়ালম ছবিটি অনেকেই দেখেননি, যা হিন্দি ছবিটি হিট হওয়ার বড় কারণ।

হিন্দি দর্শক-বান্ধব উপস্থাপন
মূল ‘দৃশ্যম ২’ অনেক বেশি বাস্তবঘেঁষা। কিন্তু হিন্দি রিমেকটিতে পাত্রপাত্রীদের নায়কোচিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বলিউড দর্শকেরা পছন্দ করেছেন। বলিউড নির্মাতারা জানেন, হিন্দি সিনেমার দর্শকেরা ড্রামা, ঝাঁ চকচকে ব্যাপার পছন্দ করেন, যা ভালোভাবেই আছে ‘দৃশ্যম টু’-তে। এ ছাড়া মূল মালয়ালম ‘দৃশ্যম ২’ অনেকটা ধীরগতির সিনেমা। যেখানে ধীরে ধীরে গল্প বুনে দ্বিতীয়ভাবে জট ছাড়ানো হয়। কিন্তু হিন্দি রিমেকটি প্রথম থেকেই ছোটে দুরন্ত গতিতে। এটিও অনেক দর্শকের ভালো লেগেছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ছবির পুলিশ চরিত্রের কথা। মালয়ালম ছবিতে পুলিশ চরিত্রটি ছিল বাস্তবঘেঁষা। কিন্তু হিন্দি রিমেকটিতে অক্ষয় খান্না অভিনীত তরুণ আহলাওয়াত চরিত্রটি নায়কোচিত করে তোলা হয়েছে।

পয়সা উশুল সিনেমা
‘দৃশ্যম টু’-এর চিত্রনাট্য দুর্দান্ত। ছবিতে আছেন অক্ষয় খান্না, অজয় দেবগনের মতো অভিনেতারা। সঙ্গে হিন্দি রিমেকটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে বলিউড দর্শকেরা ভালোভাবে উপভোগ করতে পারেন। সব মিলিয়ে এটা দারুণভাবে কাজ করেছে। ছবি মুক্তির আগে সেভাবে প্রচারণা চালানো হয়নি। তারপরও ‘পরিপূর্ণ প্যাকেজ’ হিসেবে ছবিটি লুফে নিয়েছেন দর্শকেরা।