১১ বছরের পুত্রসন্তানের মৃত্যুতে থমকে গিয়েছিল এই অভিনেতার ক্যারিয়ার

শেখর সুমন। ইনস্টাগ্রাম থেকে

‘পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী বস্তু বাবার কাঁধে ছেলের কফিন। একজন বাবার কাছে সন্তানকে হারানোর চেয়ে বড় বেদনা আর কিছু নেই।’ অভিনেতা শেখর সুমন তাঁর বড় ছেলে আয়ুশের মৃত্যু নিয়ে এমনটাই বলেছেন সম্প্রতি। পুত্রসন্তান আয়ুশ ১১ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এটা সরাসরি তাঁর ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন স্বাভাবিক কাজ করতে পারেননি এ অভিনেতা।

আরও পড়ুন

একটা সময় বলিউডে দারুণ ব্যস্ত সময় কাটত শেখর সুমনের। ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষস্থানীয় নারী তারকা রেখা, জুহি চাওলা, ডিম্পল কাপাডিয়া, পদ্মিনী কোলহাপুরেসহ অন্যদের সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন হয়, একদিন তিনি আবিষ্কার করেন যে তাঁর ছেলে গুরুতর অসুস্থ।

‘এমনিতে আমার ক্যারিয়ারটা ওই সময়ে কিছুটা ধীরগতিতে চলছিল। এর মধ্যে ১৯৮৯ সালে আবিষ্কার করি যে আমার ছেলে অসুস্থ। তখন যেন আমার সব শেষ হয়ে যায়। আমি ভেবেছিলাম যে আমার জীবন, পরিবার, সবকিছুই শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি আমার ছেলের পাশে বসেছিলাম। তাকে আমার কোলে ধরে ভাবছিলাম, একদিন সে চলে যাবে,’ বলেন তিনি।

সন্তানের শেষ দিনের স্মৃতিচারণা করে শেখর সুমন আরও বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে যখন আমরা সেই রাতে হাসপাতালে ছুটে যাই, তখন চিকিৎসক জানিয়ে দেন, ও আর নেই। আমি ওর দেহ আঁকড়ে সারা রাত শুয়েছিলাম। খুব কেঁদেছি। অলকাও খুব কেঁদেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সবটা কিছুটা স্বাভাবিক হয়। আমরা সব যন্ত্রণা, কষ্ট বুকে সামলে ছেলেকে বিদায় জানাই চিরকালের জন্য।’

‘হীরামান্ডি’ সিরিজে শেখর সুমন। ইনস্টাগ্রাম থেকে

শেখর সুমন আরও বলেন, ‘ও চলে যাওয়ার আগে আমরা অনেক সময় ধরে কেঁদেছিলাম। তাকে আট মাস সময় দেওয়া হয়েছিল, সে চার মাস বেঁচেছিল। আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। আসলে সন্তান হারানোর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কিছু নেই।’

শেখর সুমনের ভাষ্য ‘আমি আমার হৃদয়ের একটি অংশ হারিয়েছি, আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল ও। ওকে হারিয়ে বাঁচার ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলি। আমি প্রাণহীন ছিলাম। একসময় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসি। কারণ, আমাকে আমার সংসার চালাতে হয়েছিল।’
শেখর সুমন অভিনীত সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘হীরামান্ডি’ সিরিজ মুক্তি পেয়েছে কিছুদিন আগেই। নেটফ্লিক্স শোতে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র অধ্যয়ন সুমনও অভিনয় করেছেন।