মালাইকা-আরবাজের বিচ্ছেদের নেপথ্যে

আরবাজ খান ও মালাইকা অরোরা। এক্স থেকে

মালাইকা অরোরা—নামটাই যেন আলোচনার জন্য যথেষ্ট। আরবাজ খানের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের পর পেরিয়ে গেছে অনেক বছর। মাঝে অর্জুন কাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। সেই সম্পর্কও ভেঙে গেছে, এখন মালাইকা আলোচনায় নতুন প্রেমের খবরে। এর মধ্যেই সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানি দাবি করেছেন, প্রচারের স্বার্থে আরও এক দশক আগে আরবাজের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে মিথ্যা বলেছিলেন মালাইকা। ফল, আবারও আলোচনায় এই বলিউড তারকা। সেই সূত্র ধরে ফিরে দেখা যাক আরবাজ ও মালাইকার বিচ্ছেদ।

মালাইকা সমাজে নারীর সম্পর্কে দ্বিমুখী মানদণ্ড দেখেছেন, যেখানে একজন পুরুষ সহজেই বিচ্ছেদ নিতে পারেন, কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তকে ভুল বলা হয় বা সমালোচিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে মালাইকা বলেন, নিজের সুখ না থাকলে জীবনে অন্যকেও সুখী রাখা কঠিন; সব বিবেচনায় বিচ্ছেদ তাঁর সেরা সিদ্ধান্ত।

প্রেম, বিয়ে আর সংসার
মালাইকা আর আরবাজের প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল বলিউডের মঞ্চে; একে অপরকে ভালোবেসে তাঁরা বিয়ে করেন ১৯৯৮ সালে। সে সময় মালাইকা ছিলেন তরুণ, ফ্যাশন ও সিনেমাজগতের আলোচিত মুখ, আর আরবাজ তখন ইতিমধ্যেই সফল অভিনেতা–প্রযোজক। তাঁদের সংসারে এল এক পুত্র, আরহান খান। ১৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে বেশ অনেক স্মৃতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এরপর আসে সেই প্রশ্ন, যেটা অনেক সম্পর্কেই আসে—‘এটা কি আর চলবে?’

বিচ্ছেদ মালাইকার একা নাকি দুজনের সিদ্ধান্ত?
বিচ্ছেদটি একজনের একতরফা সিদ্ধান্ত নয়, বরং দুজনেই অনুভব করেছিলেন তাঁদের সম্পর্ক দুজনকেই সুখী রাখতে পারছে না। মালাইকা নিজেই একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা অনেক কিছু বিবেচনা করেছি—পেশা, পরিবারের কথা, তারপরই সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা একে অপরকে সুখী করতে পারছি না। এই অবস্থা শুধু আমাদের জীবনকে নয়, চারপাশের জীবনকেও প্রভাবিত করছে।’
মালাইকা আরও বলেন, ‘আমরা মাথা ঠান্ডা করে প্রতিটি কারণ বিশ্লেষণ করে বুঝলাম যে আমাদের আলাদা হওয়া উচিত। কারণ, আমরা একসাথে থাকলে শুধুই একে অপরের বিরক্তির উদ্রেক করছি।’

মালাইকা অরোরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

‘আমি নিজেই বদলে গিয়েছিলাম’
মালাইকা পরবর্তী সময় বহু সাক্ষাৎকারে সবাইকে জানিয়েছেন যে সম্পর্কের ভাঙন ছিল একরকম ‘প্রাকৃতিক বিচ্ছিন্নতা’, ঠিক কোনো একটি বিশেষ ঘটনায় নয়, বরং সময়ের সঙ্গে দুজনই ভিন্ন মানুষ হয়ে ওঠেন। মালাইকা মনে করেন তাঁরা তরুণ অবস্থায় বিয়ে করেছিলেন এবং সময়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও চাহিদা বদলে গিয়েছিল। তিনি স্বীকার করেছেন, তিনি নিজে পরিবর্তিত হয়েছেন। তিনি বলেন যে কোথাও কিছু তাঁর আর ভালো লাগছিল না। যা তিনি জীবনে চাইছিলেন, সেই মৌলিক অনুভূতি তাঁর মধ্যে জন্ম নিয়েছিল। মালাইকা মনে করেন, জীবনকে নিজের শর্তে বাঁচানো প্রয়োজন। তিনি বুঝেছিলেন যে নিজের সুখ না থাকলে তিনি কারও সুখ দিতে পারবেন না।

এক সাক্ষাৎকারে মালাইকা বলেন, ‘আমি শুধু নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিইনি, আমি আমার ছেলে এবং চারপাশের মানুষের জন্যও ঠিক পথ বেছে নিলাম।’
তিনি স্বীকার করেছিলেন, সেই সময়ে অনেকেই তাঁকে ‘স্বার্থপর’ বলে অভিহিত করে, কিন্তু তিনি অনুভব করেন যে নিজের মানসিক শান্তি ও সুখ প্রথমে থাকা উচিত, আর তা অন্যকে সুখী করতেও সাহায্য করে।

আরবাজ খান। অভিনেতার ফেসবুক থেকে

আরবাজের দৃষ্টিভঙ্গি
যদিও মালাইকা প্রধানত আলোচিত মুখ হয়েছিলেন বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে, আরবাজ নিজেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কিছু মন্তব্য করেছেন, যা বোঝায় তিনি এ ব্যাপারে মানসিকভাবে পরিণত ও সহনশীল। এক সাক্ষাৎকারে আরবাজ বলেছেন যে ‘সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও কোনো না কোনোভাবে সেটা ভেঙে গিয়েছিল। সম্পর্ক এমন কিছু নয়, যা কেবলই ভালো থাকলেই টিকবে—মাঝে মাঝে আমাদের নিজের পথ বের করে নিতে হয়।’

আরও পড়ুন

আরবাজ আরও বলেছেন, ‘বিচ্ছেদ মানেই ঘৃণা নয়। আমরা একে অপরকে অপছন্দ করি না। আমরা পরিণত মানুষ, শ্রদ্ধা ও সম্মানে যোগাযোগ রক্ষা করেছি, বিশেষত আমাদের ছেলের জন্য।’

মালাইকা অরোরা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

সমাজের কড়া মনোভাব
বিচ্ছেদের পর মালাইকা উল্লেখ করেছেন যে শুধু সমাজ নয়, বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছ থেকেও তিনি বহু প্রশ্ন ও সমালোচনার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বহু প্রশ্ন শুনেছি। কিছু লোক বলেন, আমি খুব দ্রুত বিয়ে করেছি; কিছু আবার বলেন আমি ঠিকমতো জীবন সাজাতে পারিনি।’

মালাইকা সমাজে নারীর সম্পর্কে দ্বিমুখী মানদণ্ড দেখেছেন, যেখানে একজন পুরুষ সহজেই বিচ্ছেদ নিতে পারেন, কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তকে ভুল বলা হয় বা সমালোচিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে মালাইকা বলেন, নিজের সুখ না থাকলে জীবনে অন্যকেও সুখী রাখা কঠিন; সব বিবেচনায় বিচ্ছেদ তাঁর সেরা সিদ্ধান্ত।

পরে কী হলো?

বিচ্ছেদের পরেও মালাইকা ও আরবাজ একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। সন্তান আরহানকে দুজনেই আলাদাভাবে সময় দেন। মালাইকা পরবর্তী সময় অর্জুন কাপুরের সঙ্গে প্রেম করেছেন; পরে সেই সম্পর্কও ভেঙে যায়। আরবাজ ২০২৩ সালে মেকআপ আর্টিস্ট সুরা খানকে বিয়ে করেন। গত বছর এই দম্পতির ঘরে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে